বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০, ০৪:১৬ অপরাহ্ন

উপ-সম্পাদক :: দিদার সরদার
প্রধান সম্পাদক :: সমীর কুমার চাকলাদার
প্রকাশক ও সম্পাদক :: কাজী মোঃ জাহাঙ্গীর
যুগ্ম সম্পাদক :: মাসুদ রানা
সহ-সম্পাদক :: এস.এম জুলফিকার
প্রধান নির্বাহী সম্পাদক :: মামুন তালুকদার
নির্বাহী সম্পাদক :: সাইফুল ইসলাম
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক :: আবুল কালাম আজাদ
সমুদ্র উপকুলে ৬৫ দিনের মৎস্য অবরোধ শেষ হচ্ছে ২৩ জুলা

সমুদ্র উপকুলে ৬৫ দিনের মৎস্য অবরোধ শেষ হচ্ছে ২৩ জুলা

কুয়াকাটা প্রতিবেদক ॥ আগামী ২৩ জুলাই শেষ হচ্ছে ৬৫ দিনের মৎস্য অবরোধ। মহামারী করোনাভাইরাস ও ৬৫ দিনের সমুদ্রে মৎস্য অবরোধের কারণে কষ্টে জীবন যাপন করছেন সমুদ্র উপকূলীয় জেলেরা। দীর্ঘদিন মাছ ধরা থেকে বিরত থাকা জেলেপল্লীতে চলছে সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়ায় ব্যাপক প্রস্তুতি। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের কলাপাড়া উপজেলায় বিস্তীর্ণ উপকূলের জেলেপল্লী গুলোতে কর্মব্যস্ত দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। মৎস্য বন্দর খ্যাত আলীপুর-মহিপুর-কুয়াকাটা জেলে পল্লীগুলোতে এমন কর্মব্যস্ততা সবচেয়ে বেশি।
কলাপাড়া উপজেলা ফিসিং ট্রলার মাঝি সমিতির সাবেক সভাপতি নুরু মাঝি জানান, ‘গভীর সমুদ্রে মাছ শিকার ছাড়া আর কোন পেশার তার অভিজ্ঞতা নেই। তাই অবরোধকালীন সময়ে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করতে হয়েছে। অপেক্ষায় ছিলেন ভরা মৌসুমে ইলিশ শিকারের মাধ্যমে পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে। সরকারের দেয়া অবরোধ মেনে সমুদ্রে মাছ শিকার করতে যান নি। কিন্তু ভারতীয় জেলেরা এ অবরোধের সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের জলসীমানায় প্রবেশ করে প্রচুর ইলিশ শিকার করে নিয়েছে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, কেউ পুরানো জাল বুনছেন, কেউবা নতুন জাল প্রস্তুত করছেন। কেউবা পুরানো নৌকা বা ট্রলার মেরামত করছেন। আবার কেউবা তৈরি করছেন নতুন ট্রলার। উপকূলীয় অঞ্চলের জেলে পল্লী এবং মৎস্য বন্দরগুলোতে ইলিশ মৌসুমকে ঘিরে চলছে ট্রলার মালিক, জেলে এবং অড়ৎদারদের মহা ব্যস্ততা। ট্রলার মালিক, আড়ৎদার, জেলে সমিতি সূত্র জানা গেছে, চলতি বছর কলাপাড়া উপজেলার মৎস্য বন্দরগুলোতে অর্ধশত ট্রলার নির্মিত হয়েছে।
কারণ হিসেবে তারা উল্লেখ করেছেন, গত বছর সমুদ্রে প্রচুর ইলিশ ধরা পরায় মৎস্য ব্যবসায় সংশ্লিষ্টরা লাভবান হয়েছে। তাই এ বছর অনেক ব্যবসায়ী তার ব্যবসা বাড়িয়েছে এবং অনেকেই নতুন ব্যবসা শুরু করেছে। ইতোমধ্যে বেশ কিছু নতুন ট্রলার ঘাটে নোঙ্গর করা হয়েছে। চলতি ইলিশ মৌসুমে এসব ট্রলার মাছ শিকারের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।
কুয়াকাটা আশার আলো মৎস্যজীবী জেলা সমবায় সমিতির সভাপতি মো. নিজাম শেখ বলেন, ‘পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রের সাথে সমন্বয় করে ভবিষ্যতে সমুদ্রে ইলিশ শিকারে নিষেধাজ্ঞা আরোপসহ জেলেদের প্রণোদনা দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ করছি।
ইলিশ মৌসুমে গভীর সাগরে জেলেদের উপরে জলদস্যুদের হামলার কথা উল্লেখ করে গঙ্গামতির জেলে জামাল হোসেন জানান, পূর্ব পুরুষদের মাছের ব্যবসা আকড়ে ধরে তিনিও এ পেশায় আছেন। ধারদেনা এবং ঋণ করে এবার তিনি নিজেই ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি নতুন ট্রলার নির্মাণ করেছেন। কোনভাবে জলদস্যুদের কবলে পড়লে তিনি নিঃস্ব হয়ে যাবেন। মহিপুর মৎস্য আড়ৎদার তানভীর আহম্মেদ লুনা আকন জানান, ইলিশ মৌসুম প্রায় শেষের দিকে, তবে সাগরে এখন পর্যাপ্ত ইলিশ আছে আবহাওয়া যদি ভাল থাকে বাকি এই কয় দিনে আল্লাহ আমাদের পুসিয়ে দিবে।তাই সাগরে প্রশাসনের শুদৃষ্টি কামনা করি।
কুয়াকাটা-আলীপুর মৎস্য আড়ৎদার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও লতাচাপলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ আনছার উদ্দিন মোল্লা বলেন, মৌসুমের শুরুতে অবরোধের ফলে দক্ষিণের বড় মৎস্য বন্দর আলীপুর-মহিপুর-কুয়াকাটা মাছের আড়ৎগুলো এতদিন নিস্প্রাণ ছিল। বেকার, অলস, মানবেতর সময় পার করেছে মৎস্য শ্রমিকরা। এখন কর্মচঞ্চল হয়ে উঠবে মৎস্য বন্দর। আশা করছি এবছর সাগরে প্রচুর মাছ ধরা পড়বে। তাই জেলেদের নিরাপদ মৎস্য শিকার নিশ্চিত করতে র‌্যাবের সমন্বয়ে যৌথ বাহিনী জলদস্যু দমনে কাজ করছে তা অব্যাহত রাখার দাবী জানাই। পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোল্লা এমদাদুল্লাহ বলেন, সরকারের নির্দেশক্রমে ৬৫ দিনের অবরোধ শেষ হবে ২৩ জুলাই। আমরা আশাবাদী জেলেদের জালে প্রচুর বড় বড় ইলিশ মাছ ধরা পড়বে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2017 Dokhinerkhobor.Com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com