সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৩:১৬ অপরাহ্ন

উপ-সম্পাদক :: দিদার সরদার
প্রধান সম্পাদক :: সমীর কুমার চাকলাদার
প্রকাশক ও সম্পাদক :: কাজী মোঃ জাহাঙ্গীর
যুগ্ম সম্পাদক :: মাসুদ রানা
সহ-সম্পাদক :: এস.এম জুলফিকার
প্রধান নির্বাহী সম্পাদক :: মামুন তালুকদার
নির্বাহী সম্পাদক :: সাইফুল ইসলাম
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক :: আবুল কালাম আজাদ
খালেদার জামিন : কৌশল না ফাঁদ

খালেদার জামিন : কৌশল না ফাঁদ

খালেদার জামিন : কৌশল না ফাঁদ
খোন্দকার কাওছার হোসেন ॥ সর্বোচ্চ আদালতে খালেদা জিয়ার জামিন আটকে যাওয়ায় বিএনপির অভ্যন্তরে চলছে নানান জল্পনা কল্পনা। হরেক প্রশ্নের উদয় হচ্ছে নেতাকর্মীদের মনে। বিষয়টি মানতে পারছেন না দলটির নেতাকর্মী থেকে শুভান্যুধায়ীরা পর্যন্ত। তারা বলতে শুরু করেছেন কি কারণে এমনটি হচ্ছে। কার ভূমিকার বলি হচ্ছেন সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী। বিয়য়টি কি আইনজীবীদের ভুলে? না তাদের কোন কৌশলে। কিংবা খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে মাইনাস করার কোন ফাঁদের অংশ কিনা।
গতকাল সোমবার খালেদা জিয়াকে হাই কোর্টের দেয়া জামিন আদেশ আগামী ৮ মে পর্যন্ত স্থগিত করে আদেশ দিয়েছে আপিল বিভাগ। ফলে এ সময় পর্যন্ত কারাগারেই থাকতে হচ্ছে তাকে। ওইদিনও তার জামিন মিলবে কিনা এ নিয়েও দলটির অভ্যন্তরে চলছে তোলপাড়। তার জামিন অনিশ্চিত ধরেই দলটির নেতাকর্মীরা মারমুখো হয়ে আছেন সিনিয়র নেতা ও আইনজীবিদের ওপর। তৃণমূল নেতাদের অভিযোগ দলটির এক শ্রেনীর নেতা ও আইনজীবীরা এরজন্য দায়ি। তারা মামলাটিকে গুরুত্ব না দিয়ে রাজনৈতিক মামলা হিসেবে প্রচার করতে ব্যস্ত ছিলেন। মামলার ত্রুটি বিচ্যুতি নিয়ে তাদের মাথাব্যাথা ছিল না। এমনকি তারা খালেদা জিয়াকে ফাঁসাতে কোন ধরণের কৌশলের আশ্রয় নিয়ে থাকতে পারেন। যা এ মামলার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়ার কথায় কিছুটা হলেও ইঙ্গিত মিলেছে। সানাউল্লাহ মিয়া আইনজীবীদের ভুল নয় দাবি করে কৌশলগত কারণের কথা ইতোপূর্বে বলেছিলেন। তবে কৌশলটি কি তা তিনি বলেননি। তবে তাদের কৌঁশলের পাল্টা কৌঁশল সরকার নিয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন। আগামী ৮ মে আপীল বিভাগ খালেদা জিয়ার জামিন দিলেও তিনি সহসা কারাগার থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না এটা অনেকটাই নিশ্চিত। কারণ তাকে অন্য মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যেই তার বিরুদ্ধে ৫টি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। এরমধ্যে কুমিল্লার একটি আদালত থেকে কারাগারে প্রডাকশন ওয়ারেন্ট (পিডাব্লিউ) বা হাজিরা পরোয়ানা পাঠানো হয়েছে। কারা-মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইফতেখার উদ্দিন জানান কুমিল্লার পাশাপাশি ঢাকার তেজগাঁও ও শাহবাগ থানার মামলায় খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এ ছাড়া নড়াইলে দায়ের করা একটি মানহানি মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। সারাদেশে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ৩৭টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে জিয়া অরফানেজ মামলার রায় হয়েছে বকশীবাজারের বিশেষ আদালতে। সেখানে জিয়া চ্যারিটেবল মামলার বিচার কাজ এখনও চলছে। গত জানুয়ারির শুরুতে সরকার এক প্রজ্ঞাপনে আরো ১৪টি মামলার কার্যক্রম বকশীবাজারের বিশেষ আদালতে স্থানান্তর করেছে। এখনও বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়নি এমন মামলার সংখ্যা ২১টি। এর মধ্যে কিছু মামলায় চার্জশিট হলেও কয়েকটি তদন্ত পর্যায়ে রয়েছে। বকশীবাজারে স্থানান্তর হওয়া মামলাগুলোর মধ্যে আরও তিনটি দুর্নীতির মামলা রয়েছে। এগুলো হচ্ছে, গ্যাটকো, নাইকো ও বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি দুর্নীতির মামলা। এর ফলে খালেদা জিয়ার আপাতত জামিনে মুক্তিলাভের সম্ভাবনা দেখছে না বিএনপি। কুমিল্লার মামলায় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত গত ২ জানুয়ারি খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এ মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তিনি সহসাই জামিন পেতেন বলে নেতাকর্মীরা বিশ্বাস করে। একই অবস্থা নড়াইলের মামলায়ও। কিন্ত তিনি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মাথায় নিয়েই ঢাকায় বসেছিলেন। জামিনের জন্য আদালতে যাননি। এমনকি আদালতে যাওয়ার জন্য তার আইনজীবী প্যানেল থেকেও কোন তাগাদা দেয়া হয়েছে বলে বিএনপি নেতারা জানাতে পারেনি। এমনটা হলে কারাগারে থাকা অবস্থায় গ্রেপ্তার দেখানোর আইনি প্যাঁচে তিনি পড়তেন না। তার কারাজীবন দীর্ঘ হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতো না বলে বিএনপির সাধারণ নেতাকর্মীদের বিশ্বাস। তাদের ধারণা এর পেছনে কোন গভীর ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। বিএনপিকে বেকায়দায় ফেলতে এবং রাজনীতি ও নির্বাচন থেকে দূরে রাখতেই বিএনপির ভেতরে কেউ ফাঁদ পেতেছে। সে ফাঁদেই পা দিয়েছেন খালেদা জিয়া। মামলা পরিচালনায় খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা বেশ কিছু ভুল করেছেন। এসব ভুল কি অজ্ঞাতসারে না ইচ্ছাকৃত সে প্রশ্ন উঠছে দলটির অভ্যন্তরে। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার নথিতে দেখা যায় এ মামলা অভিযোগ গঠন করা হয়েছে ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ। অভিযোগ গঠনের সময় আসামিকে অব্যাহতি দেয়ার একটি বিধান রয়েছে। এ জন্য আবেদন করতে হয়। কিন্তু খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা কোন আবেদন করেননি। রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. মাজেদ আলী সাক্ষ্য দেয়ার সময় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এতিম তহবিলের নথি, যাতে প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন তহবিলের অর্থ এফডিআর সংক্রান্ত তথ্য, সোনালী ব্যাংক রমনা শাখার হিসাবসংক্রান্ত কাগজপত্র ও তথ্য, বগুড়া ও বাগেরহাটের এতিমখানা সম্পর্কিত তথ্য আদালতে দাখিল করেন। খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের বিনা আপত্তিতে তা আদালত গ্রহণ করেন। অথচ কাগজপত্র স্বাক্ষরবিহীন ও ঘষামাজা থাকার পরেও খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা কোন আপত্তি জানানি। তারা তা যুক্তিতর্কের সময় দাবি করেন। তারা বলেন, এসব কাগজপত্র জাল ও সৃজিত। এই ভুলের কারণে যুক্তিতর্ক শুনানির সময় খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের বক্তব্য রায়ে বিবেচনা করা হয়নি। যা রায়ের ৫৪৭ পৃষ্ঠায় আদালত উল্লেখ করেন। আইনজীবীরা কুয়েত দূতাবাসের একটি সনদের ফটোকপি আদালতে দাখিল করেন। কুয়েত সরকারের পক্ষ থেকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টকে টাকা দান করা হয়েছে বলে ওই সনদে উল্লেখ রয়েছে। কিন্ত সনদে প্রেরক বা সনদ প্রদানকারীর স্বাক্ষর কিংবা পদবি,স্মারক নম্বর এমনকি কত টাকা অনুদান দেয়া হয়েছে তা উল্লেখ ছিল না। সনদটি দেয়া হয়েছে মোঃ আলী নামের একজন আইনজীবীকে। এমনকি কুয়েত দূতাবাসের কাউকে সাফাই সাক্ষী হিসেবে আদালতে হাজির করা হয়নি। এসব ত্রুটিও রায়ে বিচারক উল্লেখ করেন। এমনকি ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আত্মপক্ষ সমর্থনে আদালতে দেয়া খালেদা জিয়ার জবানিতে কি লেখা হয়েছে তাও বিচার বিশ্লেষন করেননি তার আইনজীবীরা। তার বক্তব্যের ৮৮ পৃষ্টায় তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন বলে রায়ে আদালত উল্লেখ করেছে। যদিও বিএনপির আইনজীবিরা এর প্রতিবাদ করে বলেছেন ওখানে প্রশ্নবোধক চিন্থ ছিল। তা উঠিয়ে দাড়ি দেয়া হয়েছে। বিএনপি নেতাকর্মীরা খালেদা জিয়ার বক্তব্যের এমন খসড়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তারা বলছেন, ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই বক্তব্য এমনভাবে লেখা হয়েছে যাতে সহজেই তা পাল্টানো যায়।
রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানা বিএনপির নেতা মোঃ হানিফ বলেন, এমন একটি সেনসেটিভ মামলায় বিএনপির বাঘা বাঘা আইনজীবীরা এমন কাচা কাজ করবেনা তা বিশ্বাস হয় না। এর পেছনে অন্য কোন কারণ থাকতে পারে। তিনি বলেন, বিএনপির আইনজীবী নেতারা কি কোন কারণে সরকারের পার্টনার হয়েছেন কিনা সেদিকে নজর রাখা দরকার।
খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া স্বীকার করেন খালেদা জিয়ার মামলা নিয়ে আমরা এক ধরনের কৌশল নিয়েছিলাম, কিন্তু সরকার তাকে আটকে রাখতে আলাদা কৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে। এ কাজে সরকার আদালতকে ব্যবহার করছে। তিনি বলেন, আমরা আইনি লড়াই চালিয়ে যাব। খালেদা জিয়া দ্রুত মুক্তি পাবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন এই আইনজীবি। খালেদা জিয়ার আইনজীবী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন,এখন আইনি লড়াই ছাড়া বিকল্প নেই। আরেকটি হচ্ছে রাজপথের আন্দোলন। সেটিতো সুপ্রিম কোর্টে করতে পারব না। তবে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব কারামুক্তির জন্য। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও খালেদা জিয়ার অন্যতম আইনজীবী জয়নুল আবেদীন বলেন, খালেদা জিয়ার জামিন আদেশ বাতিল করে উচ্চ আদালত যে আদেশ দিয়েছে তা নজিরবিহীন। আমরা বলতে বাধ্য হচ্ছি, অতীতে এই ধরনের আদেশ দেশের সর্বোচ্চ আদালত দেয়নি। তিনি অভিযোগ করেন,সরকার দেশের নিম্ন আদালতগুলোকে গ্রাস করে ফেলেছে। মনে হচ্ছে, উচ্চ আদালতকেও আস্তে আস্তে গ্রাস করার চেষ্টা করছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, খালেদা জিয়ার জামিন নিয়ে সরকার কৌশলের আশ্রয় নিয়েছে। কৌশলটা হচ্ছে জামিন স্থগিত করে দিয়েছে, নাকচ করেনি। এরপর হিয়ারিং হবে লিভ টু আপিলের। অর্থাৎ এভাবে ক্রমান্বয়ে যেতে থাকবে এবং তাকে আটকে রাখা হবে। তিনি বলেন, এটা জামিন দিয়েও করতে পারতো। আমরা দুর্ভাগ্যক্রমে প্রথম থেকে লক্ষ্য করেছি তাকে কারাগার থেকে বের করে আনবার যে আইনি প্রক্রিয়া, সে প্রক্রিয়াকে অত্যন্ত সচেতনভাবে বাধা দিচ্ছে সরকার। বিএনপি মহাসচিব বলেন, খালেদা জিয়াকে কারাগারে দীর্ঘদিন রেখে দেয়ার অর্থ হচ্ছে, সরকারের সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষকে বন্দি রেখে নীল নকশা অনুযায়ী একতরফা নির্বাচন দেখিয়ে আবার ক্ষমতায় চলে আসা। যা ইতোমধ্যে আপনারা শুনেছেনও। ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন যে, এটা এখন আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। এটা ডিসাইডেড, ডান।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2017 Dokhinerkhobor.Com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com