শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৪:৩৮ অপরাহ্ন

উপ-সম্পাদক :: দিদার সরদার
প্রধান সম্পাদক :: সমীর কুমার চাকলাদার
প্রকাশক ও সম্পাদক :: কাজী মোঃ জাহাঙ্গীর
যুগ্ম সম্পাদক :: মাসুদ রানা
সহ-সম্পাদক :: এস.এম জুলফিকার
প্রধান নির্বাহী সম্পাদক :: মামুন তালুকদার
নির্বাহী সম্পাদক :: সাইফুল ইসলাম
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক :: আবুল কালাম আজাদ
খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়া আলোচনা নয় ॥ গণতন্ত্র রক্ষায় দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে-বরিশালের সমাবেশে ফখরুল

খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়া আলোচনা নয় ॥ গণতন্ত্র রক্ষায় দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে-বরিশালের সমাবেশে ফখরুল

দিবস তালুকদার ॥ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এখন শুধু আলোচনার বিষয় একটাই। আর সেটা হলো দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি। তার মুক্তির দাবির কাছে কোনো আপোষ নয়। আগে তাকে মুক্তি দিতে হবে, তারপর অন্য আলোচনা। গতকাল শনিবার বিকেলে বরিশালের হেমায়েত উদ্দিন কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে বরিশাল জেলা ও মহানগর বিএনপি আয়োজিত আয়োজিত জনসভায় তিনি এ কথা বলেন। উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে মির্জা ফখরুল বলেন, যিনি (খালেদা জিয়া) গণতন্ত্রের মাতা, এই দেশের মানুষের মুক্তির জন্য যিনি আজীবন লড়াই করেছেন সেই নেত্রীর মুক্তির জন্য আপনারা আজ এখানে এসেছেন। গত শুক্রবার দেশনেত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম, তাকে যখন বললাম-কালকে বরিশালে জনসভা করতে যাচ্ছি। তখন তিনি বললেন, বরিশালের জনগণকে আমার সালাম জানাবেন। বরিশালের মানুষ সংগ্রামী লড়াকু। তারা গণতন্ত্রের লড়াইয়ে আছে। তিনি বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনে এই দেশের জনগণ তাদের ভোট দেয়নি। বর্তমান অবৈধ সরকার গায়ের জোরে বন্দুকের জোরে ক্ষমতায় বসে আছে। তারা আজ জনগণের নেত্রীকে সুচিকিৎসা পর্যন্ত দিচ্ছে না। আজকে আপনাদের পরীক্ষা দেওয়ার সময় এসেছে। পরীক্ষায় আপনাদের জয়ী হতে হবে। অন্যথায় চির জীবনের মতো আবদ্ধ হয়ে থাকতে হবে, জনগণের উদ্দেশ্যে বলেন ফখরুল। নেতাকর্মীদের ধৈর্য্য ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দয়া করে ধৈর্য ধরুন, শান্তি-শৃঙ্খলার মধ্যে থাকেন। নেত্রী যে নির্দেশ দেবেন তা পালন করতে হবে। তবে এর আগে তাকে জেল থেকে বের করে আনতে শান্তিপূর্ণ আন্দোল করতে হবে। দেশের মানুষের অধিকার রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, গণতন্ত্রকে রক্ষার জন্য, মানুষকে রক্ষার জন্য আসুন আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হই। বুকের ওপর চেপে বসা স্বৈরাচার সরকারকে পরাজিত করে একটি জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করি। মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন অবৈধ ভোটার বিহীন সরকার পুনরায় ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য দেশের শত শত মানুষকে গুম ও হত্যা করেছে। তিনি আরও বলেন, দেশে আজ ন্যায় বিচার আইনের কোন শাষন নেই, দেশে এখন শেখ হাসিনার শাষন চলছে। সরকার আজ বলেন দেশ নাকি মধ্যম আয়ের সাথে উন্নয়নশীল হয়েছে, হ্যা উন্নয়ন হয়েছে সরকার আর তার দলবলের।
কেন্দ্রীয় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও বরিশাল মহানগর শাখার সভাপতি মজিবর রহমান সরোয়ারের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, সেলিমা রহমান, ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর, বরকত উল্লাহ বুলু, সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরীন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, সাবেক সংসদ সদস্য নাজিম উদ্দিন আলম, বরিশাল উত্তর জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য মেজবাউদ্দিন ফরহাদ, সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হোসেন খান, নুরুল ইসলাম নয়ন, দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব এবায়েদুল হক চাঁন প্রমুখ বক্তব্য দেন। সমাবেশে উপস্থিত কেন্দ্রীয় নেতারা বলেন, আবারও পিছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় আসার উদ্দ্যেশেই জনগনের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলখানায় আটকে রাখা হয়েছে। শুধু নেত্রীই নয় বিএনপি সমর্থিতদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার সংখ্যা ১৮ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন পাক সেনারা যখন বাংলাদেশের গনমানুষের উপর আক্রমন করেছিলো ঠিক তখন যারা পালিয়ে গিয়েছিলো সেই আওয়ামী লীগ আজ নিজেদেরকে দাবী করে তারা নাকি স্বাধীনতার স্ব-পক্ষের শক্তি যা হাস্যকর। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় সদস্য সাবেক সংসদ সদস্য হাফিজ ইব্রাহিম, বিসিসি মেয়র আহসান হাবিব কামাল, ঢাকার আব্দুল আউয়াল মিন্টু, বরিশাল বিএনপির সর্বজনপ্রিয় নেতা এস. সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু, আগৈলঝাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবাহান, বরিশাল দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক এ্যাডভোকেট আবুল কালাম শাহীন, বরিশাল মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক এ্যাডভোকট আলী হায়দার বাবুল। বিভাগীয় এ সমাবেশে বরিশাল মহানগর, জেলা, ঝালকাঠী, পটুয়াখালী, ভোলা, পিরোজপুর, বরগুনাসহ এ অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা থেকে দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত হন। দুপুর ২টার আগেই ঈদগাহ মাঠ কানায় কানায় ভরে যায়। এরপর আশপাশের সড়কে অবস্থান নেন আগত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। সমাবেশস্থলে উপস্থিত নেতাকর্মীদের ‘খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই, মুক্তি চাই’ সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে শোনা গেছে। দুপুর ২টার আগেই ঈদগাহ মাঠ কানায় কানায় ভরে যায়। এরপর আশপাশের সড়কে অবস্থান নেন আগত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। সমাবেশ শান্তিপূর্ণ করতে পুলিশের নিরাপত্তাও ছিলো চোখে পরার মত।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2017 Dokhinerkhobor.Com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com