রবিবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২০, ০৭:৪৯ পূর্বাহ্ন

উপ-সম্পাদক :: দিদার সরদার
প্রধান সম্পাদক :: সমীর কুমার চাকলাদার
প্রকাশক ও সম্পাদক :: কাজী মোঃ জাহাঙ্গীর
যুগ্ম সম্পাদক :: মাসুদ রানা
সহ-সম্পাদক :: এস.এম জুলফিকার
প্রধান নির্বাহী সম্পাদক :: মামুন তালুকদার
নির্বাহী সম্পাদক :: সাইফুল ইসলাম
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক :: আবুল কালাম আজাদ
উচ্চ মাধ্যমিকের ফল প্রকাশ, পাসের হার কমেছে ২.২৭ শতাংশ ॥পাসের হার সবচেয়ে বেশি বরিশাল, জিপিএ-৫ ঢাকায়:

উচ্চ মাধ্যমিকের ফল প্রকাশ, পাসের হার কমেছে ২.২৭ শতাংশ ॥পাসের হার সবচেয়ে বেশি বরিশাল, জিপিএ-৫ ঢাকায়:

দখিনের খবর ডেক্স ॥ উচ্চমাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে গতকাল বৃহস্পতিবার। মাধ্যমিকে বড় বিপর্যয়ের পর উচ্চমাধ্যমিকেও এবার পাসের হার কমেছে; সার্বিকভাবে পাস করেছে ৬৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ শিক্ষার্থী। দ্বাদশ শ্রেণির গ-ি পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার পর্যায়ে পা রাখতে যাওয়া এই শিক্ষার্থীদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছেন মোট ২৯ হাজার ২৬২ জন শিক্ষার্থী। গত বছর এ পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক ৯১ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৩৭ হাজার ৭২৬ জন। সেই হিসাবে এবার উচ্চ মাধ্যমিকে পাসের হার কমেছে ২ দশমিক ২৭ শতাংশ পয়েন্ট। আর পূর্ণাঙ্গ জিপিএ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ৮ হাজার ৪৬৪ জন। সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ গতকাল বৃহস্পতিবার গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে ফলাফলের সারসংক্ষেপ হস্তান্তর করেন। বেলা ১টায় সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এবারের ফলাফলের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী। তারপর শিক্ষার্থীরা শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইট (িি.িবফঁপধঃরড়হনড়ধৎফৎবংঁষঃং.মড়া.নফ) এবং নিজের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাড়াও যে কোনো মোবাইল থেকে এসএমএস করে ফল জানতে পারেন। চলতি বছর ২ এপ্রিল থেকে ১৩ মে এইচএসসি ও সমমানের লিখিত পরীক্ষা চলে। এরপর ১৪ থেকে ২৩ মে নেওয়া হয় ব্যবহারিক পরীক্ষা। সারা দেশে দুই হাজার ৫৪১টি কেন্দ্রে এবার ১৩ লাখ ১১ হাজার ৪৫৭ জন শিক্ষার্থী উচ্চমাধ্যমিকপরীক্ষায় অংশ নেয়। বেশ কয়েক বছর ধরে পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমে ফাঁস হলেও এবার প্রশ্ন ফাঁসের কোনো ধরনের অভিযোগ ছাড়াই শেষ হয় উচ্চ মাধ্যমিকের সব পরীক্ষা। প্রতিবারের মতো এবারও শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইট থেকে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল জানতে পারছেন শিক্ষার্থীরা; জানা যাচ্ছে মোবাইল ফোনে এসএমএস করেও। আটটি সাধারণ বোর্ডের অধীনে এইচএসসির ফল জানাতে ঐঝঈ লিখে স্পেস দিয়ে বোর্ডের প্রথম তিন অক্ষর স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে ২০১৮ লিখে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএসে ফল জানিয়ে দেওয়া হবে। আলিমের ফল জানতে অষরস লিখে স্পেস দিয়ে গধফ স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে ২০১৮ লিখে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএসে ফল পাওয়া যাবে। এছাড়া এইচএসসি ভোকেশনালের ফল জানতে ঐঝঈ লিখে স্পেস দিয়ে ঞবপ লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে ২০১৮ লিখে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএসে ফল জানিয়ে দেওয়া হবে। এদিকে, রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটক থেকে আগামি ২০ থেকে ২৬ জুলাই পর্যন্ত এইচএসসি ও সমমানের ফল পুনঃনিরীক্ষার আবেদন করা যাবে। ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করতে জঝঈ লিখে স্পেস দিয়ে বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে বিষয় কোড লিখে ১৬২২২ নম্বরে পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএসে ফি বাবদ কত টাকা কেটে নেয়া হবে তা জানিয়ে একটি পিন নম্বর (পার্সোনাল আইযেন্টিফিকেশন নম্বর-চওঘ) দেওয়া হবে। আবেদনে সম্মত থাকলে জঝঈ লিখে স্পেস দিয়ে ণঊঝ লিখে স্পেস দিয়ে পিন নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে যোগাযোগের জন্য একটি মোবাইল নম্বর লিখে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে। প্রতিটি বিষয় ও প্রতি পত্রের জন্য দেড়শ’ টাকা হারে চার্জ কাটা হবে। যে সব বিষয়ের দুটি পত্র (প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র) রয়েছে যে সকল বিষয়ের ফল পুনঃনিরীক্ষার আবেদন করলে দুটি পত্রের জন্য মোট ৩০০ টাকা ফি কাঁটা হবে। একই এসএমএসে একাধিক বিষয়ের আবেদন করা যাবে, এ ক্ষেত্রে বিষয় কোড পর্যায়ক্রমে ‘কমা’ দিয়ে লিখতে হবে।
৫৫ প্রতিষ্ঠানের সবাই ফেল, সবাই পাস ৪০০ প্রতিষ্ঠানে: এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এবার ৫৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। আর ৪০০টি প্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সব শিক্ষার্থীই পাস করেছে। এ পরীক্ষায় গত বছর ৭২টি প্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষার্থী ফেল করে। সেই হিসেবে এবার শতভাগ ফেলের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমেছে ১৭টি। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, শূন্য পাস করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা এবার কমেছে। এবার দিনাজপুর বোর্ডের ১২টি, ঢাকা ও রাজশাহী বোর্ডের ছয়টি করে, যশোর বোর্ডের চারটি; কুমিল্লা, বরিশাল ও সিলেট বোর্ডের দুটি করে এবং চট্টগ্রাম বোর্ডের একটি প্রতিষ্ঠানের সব পরীক্ষার্থী ফেল করেছে। মাদ্রাসা বোর্ডের ১৩টি এবং কারিগরি বোর্ডের সাতটি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী এবার পাস করতে পারেনি। অন্যদিকে ৪০০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সব পরীক্ষার্থী এ বছর উচ্চ মাধ্যমিকে পাস করেছেন, গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৫৩২টি। এ হিসেবে এবার শতাভাগ শিক্ষার্থী পাসের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১৩২টি কমেছে। ঢাকা বোর্ডে শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে এমন প্রতিষ্ঠান ৩৯টি। এ ছাড়া রাজশাহী বোর্ডে ১৯টি, কুমিল্লা ও দিনাজপুরে ১৪টি করে, সিলেটে ১০টি, যশোরে ছয়টি এবং চট্টগ্রাম ও বরিশাল পাঁচটি করে প্রতিষ্ঠানের সবাই পাস করেছে। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবার ২৮৮টি প্রতিষ্ঠানের শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে। আর কারিগরি বোর্ডে শতভাগ পরীক্ষার্থী পাস করা কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠা নেই।
পাসের হার সবচেয়ে বেশি বরিশাল, জিপিএ-৫ ঢাকায়: এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এবার পাসের দিক থেকে এগিয়ে রয়েছে বরিশাল বোর্ড। আর দিনাজপুর বোর্ড থেকে সবচেয়ে কম শিক্ষার্থী পাস করেছে। প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, ৭০ দশমিক ৫৫ শতাংশ পাসের হার নিয়ে আট সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে বরিশাল বোর্ড। আর কুমিল্লা বোর্ডের ৬০ দশমিক ২১ শতাংশ পাসের হার সারা দেশের মধ্যে সবচেয়ে কম। ৬৬ দশমিক ৫১ শতাংশ পাসের হার নিয়ে গত দুই বছরের মত এবারও দ্বিতীয় অবস্থানে রাজশাহী বোর্ড। আর ৬৬ দশমিক ১৩ শতাংশ পাস নিয়ে ঢাকা বোর্ডের অবস্থান তৃতীয়। চতুর্থ অবস্থানে থাকা কুমিল্লা বোর্ডে পাসের হার ৬৫ দশমিক ৪২ শতাংশ; ৬২ দশমিক ৭৩ পাসের হার নিয়ে পঞ্চম অবস্থানে আছে চট্টগ্রাম বোর্ড; ষষ্ঠ অবস্থানে থাকা সিলেট বোর্ডে পাসের হার ৬২ দশমিক ১১ শতাংশ এবং সপ্তম স্থানে থাকা যশোর বোর্ডে পাস করেছে ৬০ দশমিক ৪০ শতাংশ পরীক্ষার্থী। এদিকে, আট শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে ঢাকা বোর্ডে। এ বোর্ডে ১২ হাজার ৯৩৮ জন পূর্ণ জিপিএ পেয়েছেন। পূর্ণাঙ্গ পিজিএ অর্জনে এরপরই রাজশাহী বোর্ডের শিক্ষার্থীদের অবস্থান। এই বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪ হাজার ১৩৮ জন। দুই হাজার ২৯৭ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন দিনাজপুর বোর্ডে। এ ছাড়া যশোর বোর্ডে ২ হাজার ৮৯, চট্টগ্রামে ১ হাজার ৬১৩, বরিশালে ৬৭০, সিলেটে ৮৭৩ এবং কুমিল্লায় ৯৪৪ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন। মাদ্রাসা বোর্ডে ১ হাজার ২৪৪ জন, কারিগরি বোর্ডে ২ হাজার ৪৫৬ জন পরীক্ষার্থী এবার জিপিএ-৫ পেয়েছেন।
বিদেশের কেন্দ্রে ৯২.২৮শতাংশ পাস: এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এবার দেশের বাইরের কেন্দ্রে ৯২ দশমিক ২৮ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। বিদেশের সাতটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ২৮৫ জন শিক্ষার্থী উচ্চমাধ্যমিকপরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল এবার। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ২৬৩ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১৬ জন। সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ গতকাল বৃহস্পতিবার গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে ফলাফলের সারসংক্ষেপ হস্তান্তর করেন। গত বছর বিদেশের কেন্দ্র থেকে ৯৪ দশমিক ২১ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছেলি। সেই হিসেবে বিদেশ কেন্দ্রে এবার পাসের হার কমেছে ১ দশমিক ৯৩ শতাংশ পয়েন্ট। বিদেশের কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সাতটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠানের শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে। এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এবার ৬৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে; তাদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৯ হাজার ২৬২ জন।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2017 Dokhinerkhobor.Com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com