মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২০, ১১:৫২ পূর্বাহ্ন

উপ-সম্পাদক :: দিদার সরদার
প্রধান সম্পাদক :: সমীর কুমার চাকলাদার
প্রকাশক ও সম্পাদক :: কাজী মোঃ জাহাঙ্গীর
যুগ্ম সম্পাদক :: মাসুদ রানা
সহ-সম্পাদক :: এস.এম জুলফিকার
প্রধান নির্বাহী সম্পাদক :: মামুন তালুকদার
নির্বাহী সম্পাদক :: সাইফুল ইসলাম
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক :: আবুল কালাম আজাদ
দ্ইু জনপ্রতিনিধি অক্লান্ত পরিশ্রমে রাজশাহী নগর এখনও করোনা মুক্ত

দ্ইু জনপ্রতিনিধি অক্লান্ত পরিশ্রমে রাজশাহী নগর এখনও করোনা মুক্ত

রাজশাহী প্রতিবেদক ॥ সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস। বাংলাদেশের ৬৪ জেলাতেও করোনা হানা দিয়েছে। তবে এখনও করোনামুক্ত রয়েছে বিভাগীয় শহর রাজশাহী। রাজশাহী সদরের দুই জনপ্রতিনিধি এবং স্থানীয় প্রশাসনের তৎপরতায় তা সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন বিশিষ্টজনেরা। তবে এখন শহরের দোকানপাট-মার্কেট খুলে দিলে এ শহরকে নিরাপদ রাখা সম্ভব হবে না বলেও অভিমত তাদের।

করোনা পরিস্থিতির শুরু থেকেই বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে নিয়ে প্রস্তুতি শুরু করেন রাজশাহী সিটি মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন ও সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা। সরাসরি তারা এ সংক্রান্ত সবগুলো সভায় উপস্থিত থাকেন। মতামত দেন। নগরকে করোনামুক্ত রাখতে এ দুই নেতার নির্দেশনা অনুযায়ী যথাসাধ্য কাজও করেছেন প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা।

সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা রামেক হাসপাতাল পরিচালনা পর্ষদের সভাপতিও। করোনা পরিস্থিতির শুরুতেই তিনি রাজশাহীতে করোনার ল্যাব স্থাপনের জন্য দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন। ফলে ঢাকা ও চট্টগ্রামের পর রাজশাহীতেই প্রথম করোনা শনাক্তের পরীক্ষা শুরু হয় পয়লা এপ্রিল। রামেক হাসপাতালেও আরেকটি করোনার নমুনা পরীক্ষার ল্যাব চালু হতে যাচ্ছে। সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ও সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশার টিমওয়ার্ক এবং পুলিশ-প্রশাসনের তৎপরতার কারণে নগরকে এখনও অনেকাংশে করোনামুক্ত রাখা সম্ভব হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের একজন পদস্থ কর্মকর্তা জানান, ৮ মার্চ দেশে প্রথম রোগী শনাক্তের পর থেকেই রাজশাহীর এ দুই জনপ্রতিনিধি যাতায়াতের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের কথা বলে আসছিলেন। কিন্তু প্রশাসনিক পর্যায় থেকে এভাবে হুট করে যোগাযোগ বন্ধ করাটা সম্ভব ছিলো না। তারপরেও করোনা সংক্রমণকালে দেশের মধ্যে সবার প্রথম দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ করা হয় রাজশাহীতেই। ২৬ মার্চ থেকে সারাদেশে সরকারি সাধারণ ছুটি শুরুর প্রায় এক সপ্তাহ আগে ১৯ মার্চ এই সিদ্ধান্ত আসে রাজশাহী বাস মালিক সমিতি ও জেলা মোটরশ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে। সংবাদ সম্মেলন করে আনুষ্ঠানিকভাবে এই দুই সংগঠন যান চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করলেও এর পেছনে এ দুই জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের পরোক্ষ সমর্থন ছিলো।

করোনাভাইরাস মোকাবেলায় কর্মরতদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ও সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা শুরু থেকেই প্রতিটি বিষয়ে তদারকি করছেন। মানুষ যেন ঘরে থাকেন তার জন্য খাদ্যসহায়তার ব্যবস্থা করছেন। মাঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও সেই সঙ্গে তাল মিলিয়ে তৎপর থেকেছে। এর কারণেই জেলায় এখনও সংক্রমণ কম, নগর এখনও করোনামুক্ত। তবে এখন দোকানপাট-মার্কেট খুলে দিলে ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অবশ্য করোনাপরিস্থিতিতে রাজশাহীর মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধের বিষয়েই মত দিয়েছেন মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন ও সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা। শনিবার (০৯ মে) রাতে জেলা প্রশাসক মো: হামিদুল হককে তাদের মতামতও জানিয়েছেন। এর আগে নগর ভবনে তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেন। সেখানে রাজশাহী শিল্প ও বণিক সমিতির নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। এরপর লিটন ও বাদশা এই সিদ্ধান্তে আসেন যে, রাজশাহীতে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে হলে দোকান-পাট-মার্কেট আরও কিছু দিন বন্ধই রাখা ঠিক হবে।

সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, আমাদের শহর এখনও করোনামুক্ত। কিন্তু ঝুঁকিমুক্ত নয়। শহরকে নিরাপদ রাখতে হলে আমাদের লকডাউন মেনেই চলতে হবে। সে জন্য দোকানপাট-মার্কেট বন্ধ রাখার কোনো বিকল্প নেই। ঈদের আগে মার্কেট খুলে দিলে আক্রান্ত এলাকা থেকেও অনেকে এ শহরে কেনাকাটা করতে আসবেন। তখন পরিস্থিতি সামাল দেয়া কঠিন হয়ে পড়বে। তাই আমরা দোকানপাট-মার্কেট বন্ধ রাখার পক্ষে। আমাদের সঙ্গে ব্যবসায়ী নেতারাও একমত।

গত ১২ এপ্রিল রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় প্রথম করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হয়। গোটা রাজশাহী বিভাগের মধ্যে এখানেই প্রথম শনাক্ত হন কোনো ব্যক্তি। এরপর মোট ১৭ জন শনাক্ত হয়েছেন। মারা গেছেন একজন। তার বাড়ি ছিলো জেলার বাঘা উপজেলায়। এখন জেলার পুঠিয়া উপজেলায় ৫ জন, দুর্গাপুরে ২ জন, বাগমারায় ১ জন, মোহনপুরে ৪ জন, তানোরে ৩ জন এবং পবায় ১ জন করোনা আক্রান্ত রোগী রয়েছেন। গত সোমবারের পর রাজশাহীতে নতুন করে কেউ শনাক্ত হননি। রাজশাহী মহানগর এখনও করোনামুক্ত রয়েছে।

বিভাগীয় বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা: গোপেন্দ্রনাথ আচার্য্য বলছেন, রাজশাহী মহানগরীতে এখনও শনাক্ত হয়নি, কিন্তু শনাক্ত হবে না, বিষয়টা তা নয়। ভবিষ্যতে শনাক্ত হতেই পারে। কিন্তু এখন যে অবস্থা তাতে যদি শহরের মানুষ ঠিকঠাক ঘরে থাকেন, সামাজিক দূরত্ব মানেন এবং সরকারি নিন্দেশনাগুলো মেনে চলেন, তাহলে আমাদের ভালো থাকার সম্ভাবনা আগামীতে আরও বাড়বে। এ অবস্থায় দোকানপাট ও মার্কেট না খোলাটাই যুক্তিযুক্ত বলে মনে করেন তিনি।

সিটি মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন ও সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা বলছেন, রোববার থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মার্কেটের দোকান খোলার কথা বলা হলেও রাজশাহী নগরীর আরডিএ মার্কেট কিংবা কাপড়পট্টির মতো এলাকায় এটি নিশ্চিত করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তাই মার্কেট বন্ধ রাখাই ঠিক হবে। নিজেদের জীবনের স্বার্থে তারা ব্যবসায়ীদের দোকানপাট-মার্কেট না খোলার আহ্বান জানান।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2017 Dokhinerkhobor.Com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com