বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০, ০২:৪২ অপরাহ্ন

উপ-সম্পাদক :: দিদার সরদার
প্রধান সম্পাদক :: সমীর কুমার চাকলাদার
প্রকাশক ও সম্পাদক :: কাজী মোঃ জাহাঙ্গীর
যুগ্ম সম্পাদক :: মাসুদ রানা
সহ-সম্পাদক :: এস.এম জুলফিকার
প্রধান নির্বাহী সম্পাদক :: মামুন তালুকদার
নির্বাহী সম্পাদক :: সাইফুল ইসলাম
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক :: আবুল কালাম আজাদ
করোনার আঘাত ১৪-দলীয় জোটে

করোনার আঘাত ১৪-দলীয় জোটে

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার মৃত্যু হয়েছে। একজন নেতার শোক কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই আরেক নেতার মৃত্যুর খবর আসছে। আক্রান্ত আছেন সারাদেশের বিভিন্ন পর্যায়ের আরও ডজন খানেক নেতা। তবে দলের সভাপতিম-লীর সদস্য, ১৪ দলীয় জোটের মুখপাত্র ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের প্রয়াণে যেন বড় আঘাত পেয়েছে আওয়ামী লীগ। দলটির নেতারা বলছেন, মোহাম্মদ নাসিমের মৃত্যু দলের জন্য বড় আঘাত। দলের সভাপতি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতোমধ্যে বলেছেন, মোহাম্মদ নাসিমের মৃত্যুতে তিনি একজন বিশ্বস্ত সহযোদ্ধাকে হারিয়েছেন।

নাসিমের মৃত্যুর পর পরই আওয়ামী লীগের আরেক বিশ্বস্ত নেতা, সাবেক ধর্মবিষয়ক সম্পাদক, ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ এবং দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য, সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র জনপ্রিয় নেতা বদর উদ্দিন আহমদ কামরানও না ফেরার দেশে চলে যান। তাদের মৃত্যুতে রাজনৈতিক শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে।

এ ছাড়াও দলের প্রবীণ নেতা গাজীপুরের জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল এবং পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উ শৈ সিং ও উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদ এমপি করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাদের অবস্থার উন্নতির খবরের মধ্যেই গতকাল বুধবার বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্সীর করোনা আক্রান্ত হওয়ার খবর গণমাধ্যমে এসেছে। সব মিলিয়ে করোনা ভাইরাস ঘিরে দুশ্চিন্তা পিছু ছাড়ছে না আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের।

এমন অবস্থায় দলীয়ভাবে আওয়ামী লীগ এবং জোটগতভাবে ১৪ দলও বড় আঘাতের সম্মুখীন হলো। এমনিতেই বর্তমান মন্ত্রিসভা গঠন করার পর থেকে জোটে চাওয়া-পাওয়ার গরমিল নিয়ে একটা টানাপড়েন চলছিল। কিন্তু মোহাম্মদ নাসিম নানা আয়োজনের মাধ্যমে সবার অভিমান থামিয়ে রাখেন। কিন্তু নাসিমের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে কে আসেন সে দায়িত্বে এটা নিয়ে ১৪ দলে রয়েছে নানা জল্পনাকল্পনা।
জোটের ৪ জন শীর্ষ নেতা আমাদের সময়কে বলেন, জোটের সব সিদ্ধান্ত তো বলা যায় আওয়ামী লীগ একাই নেয়। একই প্রক্রিয়ায় হয়তো নাসিমের রিপ্লেসমেন্ট হবে। সুতরাং এখানে বড় আশা করে লাভ নেই।

তবে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য কর্নেল (অব) ফারুক খান আমাদের সময়কে বলেন, চৌদ্দ দল দেখাশোনার দায়িত্ব নিশ্চয়ই যোগ্য একজনকে দেওয়া হবে? এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা শরিক দলের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করেই চূড়ান্ত করবেন। তিনি বলেন, দেশে পলিটিক্যাল কার্যক্রম এখন কম। কোভিড-১৯ সংক্রমণ প্রতিরোধেই ব্যস্ত সবাই। যদিও বাংলাদেশে করোনা অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেকটা নিয়ন্ত্রণে। তবু এত দ্রুত ১৪ দলের সমন্বয়ক নির্বাচনের প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না। এটা ধীরেসুস্থে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় করা হবে। জানা গেছে, জোটের নেতৃত্ব কাকে দেওয়া হচ্ছে এ নিয়ে ক্ষমতাসীন জোটে চলছে অভ্যন্তরীণ আলোচনা। জোটপ্রধান আওয়ামী লীগ থেকে হবে, নাকি শরিক দলের কোনো নেতাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে এ নিয়েই চলছে নানামুখী কথাবার্তা। অনেকে মনে করছেন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রমকে জোটের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে? তিনি দীর্ঘদিন ধরেই নাসিমের সঙ্গে চৌদ্দ দলের বিভিন্ন সভা-সমাবেশে থেকেছেন। এ ছাড়াও ঢাকাকেন্দ্রিক তার রাজনৈতিক প্রভাব আছে।

মায়া ছাড়াও আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, আবদুর রাজ্জাক, আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন প্রমুখের নাম রয়েছে এই আলোচনায়।

ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগ নেতাদের অনেকে জোটের নেতৃবৃন্দের খোঁজখবর নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। অনেকে জোটে নিজের অবস্থান জানান দিতেও জোটের নেতৃবৃন্দের বাসায় ঢুঁ দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। জানা গেছে, দলের দুজন প্রেসিডিয়াম সদস্য এই দায়িত্ব নিতে বেশি আগ্রহী। তবে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাই এই আলোচনার অবসান ঘটাবেন জোট পরিচালনার নেতা নেতৃত্ব নির্বাচনের মধ্য দিয়ে।

জোট গঠনের পর থেকে প্রবীণ রাজনীতিক আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী ও মোহাম্মদ নাসিম ১৪ দলকে দেখভাল করতেন। ওয়ার্কার্স পার্টি, গণফোরাম, সাম্যবাদী দল, গণতন্ত্রী পার্টি, কমিউনিস্ট কেন্দ্র, গণআজাদী লীগ, গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টি, বাসদ (একাংশ) এ আটটি দল তৎকালীন ১১ দলে থেকে যায়। এর পর গণফোরাম জোট থেকে বেরিয়ে যায়। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি (জেপি) ও তরিকত ফেডারেশনকে জোটে নেওয়া হয়। দুই বছর আগে জাসদ ভেঙে দুটি আলাদা জাসদ গঠিত হয়। দুই জাসদই বর্তমানে ১৪ দলে রয়েছে। জোট গঠনের শুরু থেকেই তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত সরকারের ‘নানা অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে’ আন্দোলন-সংগ্রাম করে আসছে জোটের শরিকরা। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর ঐক্যবদ্ধ নির্বাচন করে তারা। ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর ১৪ দলকে মন্ত্রিসভায় রাখা হয়। ২০০৯ সাল থেকে ১৪ দলীয় জোটের সমন্বয়ক সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী থাকলেও মূলত মোহাম্মদ নাসিমই ১৪ দলকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন।

এদিকে, আওয়ামী লীগের ৯১ সদস্যবিশিষ্ট কার্যনির্বাহী কমিটির ৪টি পদ খালি ছিল। মোহাম্মদ নাসিমের মৃত্যুতে সভাপতিম-লীর একটি ও বদর উদ্দিন কামরানের মৃত্যুতে ১টি কার্যকরী সদস্য পদ খালি হয়েছে? অর্থাৎ ২ সম্পাদকীয় পদ, ৩টি কার্যনির্বাহী সদস্য ও ১টি সভাপতিম-লীর সদস্য পদ খালি আছে আওয়ামী লীগের। দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কথা বলে জানা গেছে, দলের শূন্য পদের বিষয়ে এই মুহূর্তে ভাবছে না আওয়ামী লীগ। বর্তমান কোভিড-১৯ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এই সিদ্ধান্ত হবে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2017 Dokhinerkhobor.Com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com