শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর ২০২০, ০২:৫৮ পূর্বাহ্ন

উপ-সম্পাদক :: দিদার সরদার
প্রধান সম্পাদক :: সমীর কুমার চাকলাদার
প্রকাশক ও সম্পাদক :: কাজী মোঃ জাহাঙ্গীর
যুগ্ম সম্পাদক :: মাসুদ রানা
সহ-সম্পাদক :: এস.এম জুলফিকার
প্রধান নির্বাহী সম্পাদক :: মামুন তালুকদার
নির্বাহী সম্পাদক :: সাইফুল ইসলাম
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক :: আবুল কালাম আজাদ
সাবরিনার তদবিরেই মেলে করোনা টেস্টের অনুমতি

সাবরিনার তদবিরেই মেলে করোনা টেস্টের অনুমতি

যোগ্যতা নয়, ব্যক্তিগত তদবিরের জোরেই করোনা ভাইরাস পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহের অনুমতি পেয়েছিল জেকেজি হেলথকেয়ারের চেয়ারম্যান সাবরিনা শারমিন হুসাইন ওরফে সাবরিনা আরিফ চৌধুরী দম্পতি। যার পেছনে মূলহোতা হিসেবে কাজ করেন ডা. সাবরিনা।

সাবরিনার সেলফোনের কললিস্ট যাচাই করে পুলিশের তদন্তকারীরা মন্ত্রী, এমপি, স্বাস্থ্য বিভাগের প্রভাবশালী আমলা, বিএম নেতাসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রভাবশালীদের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগের প্রমাণ পেয়েছে। ওইসব প্রভাবশালীদের প্রভাবেই জেকেজি ট্রেড লাইসেন্স হওয়ার আগেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে করোনার বুথ স্থাপন করে নমুনা সংগ্রহের অনুমতি নিয়ে আসে। চলতি বছরের ৬ এপ্রিল এই অনুমতি পায় প্রতিষ্ঠানটি। অথচ এর পর ১৬ জুন সিটি করপোরেশন থেকে জেকেজির ট্রেড লাইসেন্স নেওয়া হয়।

এদিকে ৩ দিনের রিমান্ডে নিয়ে ডা. সাবরিনাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। গত সোমবার রাতে মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে রাতেই সাবরিনাকে হেফাজতে নেয় ডিবি। এর আগে গত রবিবার তেজগাঁও থানার জালিয়াতির মামলায় সাবরিনাকে গ্রেপ্তারের পর সোমবার আদালতের মাধ্যমে তাকে তিন দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ।

এদিকে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, সাবরিনা প্রতারণার কাজে যে সিম ব্যবহার করতেন তা নিজের নামে নিবন্ধন করা না। সেটি একজন রোগীর নামে নিবন্ধন করা। এই সিমের বিষয়ে সাবরিনার গাড়ির চালককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। প্রায় এক বছর ধরে সাবরিনা এই সিম ব্যবহার করছেন বলে তিনি জানিয়েছেন। তেজগাঁও

থানার ওসি সালাহ উদ্দীন মিয়া বলেন, মামলাটি গোয়েন্দা পুলিশ তেজগাঁও বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আসামি সাবরিনাকেও গোয়েন্দা পুলিশের হেফাজতে দেওয়া হয়েছে। তারাই এখন মামলাটি তদন্ত করছে।

ডিবির তেজগাঁও বিভাগের ডিসি গোলাম মোস্তফা রাসেল আমাদের সময়কে বলেন, জেকেজির জালিয়াতির বিষয়ে সাবরিনাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তার দেওয়া তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

পুলিশ জানায়, জেকেজি হেলথকেয়ার থেকে এখন পর্যন্ত ২৭ হাজার রোগীকে করোনা ভাইরাস পরীক্ষার প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১১ হাজার ৫৪০ জনের নমুনা আইইডিসিআরের মাধ্যমে পরীক্ষা করানো হয়েছিল। বাকি ১৫ হাজার ৪৬০টি প্রতিবেদন তৈরি করা হয় জেকেজি কর্মীদের ল্যাপটপে। এর মাধ্যমে প্রায় সাড়ে সাত কোটি টাকা সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে হাতিয়ে নিয়েছে। এ জালিয়াতির নেপথ্যে থেকে কাজ করেছেন, জেকেজির চেয়ারম্যান সাবরিনা এবং প্রতিষ্ঠানরটির সিইও সাবরিনার স্বামী আরিফুল হক চৌধুরী।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ জেকেজির জালিয়াতির ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটি থেকে জব্দ করা ৪টি ল্যাপটপ, ২টি ডেস্কটপ সাবরিনার ব্যক্তিগত সেলফোন সিআইডিতে পাঠাচ্ছে ফরেনসিক পরীক্ষা করার জন্য। তিনি কোনো ডকুমেন্ট ডিলিট করেছেন কিনা তা খতিয়ে দেখবে পুলিশের তদন্তকারীরা। ইতোমধ্যে সাবরিনার সেলফোন ঘেঁটে পুলিশের তদন্তকারীরা পিলে চমকানো তথ্য পেয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তা এখনই প্রকাশ করতে চাইছে না।

পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জেকেজির বিরুদ্ধে মোট চারটি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি প্রতারণার মামলা এবং থানায় হামলা, ভাঙচুর পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে। ওই মামলায় গত ২৩ জুন সাবরিনার স্বামী অরিফুল হক চৌধুরীকে গ্রেপ্তারের পর জেকেজি কর্মীরা তেজগাঁও থানায় গিয়ে বিক্ষোভ করে। পরে পুলিশবাদী আরেকটি মামলা করে এবং তাতে জেকেজির ১৮ কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়। আরিফের গ্রেপ্তারের খবর পেয়ে দুজন ব্যবসায়ী একই থানায় আরও দুটি মামলা করেন। এর একটিতে ১২টি ল্যাপটপ ভাড়া নেওয়ার নামে আত্মসাৎ করা এবং অন্যটিতে দুটি আর্চওয়ে এবং ২০টি ওয়াকিটকি কিনে টাকা না দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়।

উল্লেখ্য, গত রবিবার দুপুরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হৃদরোগ ইনস্টিটিউট থেকে ডা. সাবরিনাকে পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের ডিসির কার্যালয়ে ডেকে নেয় পুলিশ। পরে তাকে তেজগাঁও থানায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পুলিশ বলছে, অনেক প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে না পারায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদিকে গ্রেপ্তারের পর গতকাল রবিবার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের কার্ডিয়াক সার্জন ডা. সাবরিনাকে বরখাস্ত করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এর আগে বিনামূল্যে পরীক্ষার অনুমতি নিয়ে জাল-জালিয়াতি করছিল জেকেজি। গ্রেপ্তার হন আরিফুল হক চৌধুরীসহ প্রতিষ্ঠানের আরও চার কর্মকর্তা-কর্মচারী। এমন পরিস্থিতিতে সাবরিনা পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, তিনি সরকারি কাজের অবসরে প্রতিষ্ঠানটিতে স্বেচ্ছাশ্রম দিয়েছেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ২০১৫ সালে সাবরিনাকে বিয়ে করার পর আরিফুল স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন ব্যবসায় আসেন। ওভাল গ্রুপের আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আছে। তাদের একটি বুটিক হাউসও আছে। করোনার এই সময়ে তাদের অন্য কাজ নেই। শুধু জেকেজি হেলথকেয়ারের ওপর নির্ভর করেই সব চলছে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2017 Dokhinerkhobor.Com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com