বুধবার, ১০ অগাস্ট ২০২২, ০১:৩৫ পূর্বাহ্ন

উপ-সম্পাদক :: দিদার সরদার
প্রধান সম্পাদক :: সমীর কুমার চাকলাদার
প্রকাশক ও সম্পাদক :: কাজী মোঃ জাহাঙ্গীর
যুগ্ম সম্পাদক :: মাসুদ রানা
সহ-সম্পাদক :: এস.এম জুলফিকার
প্রধান নির্বাহী সম্পাদক :: মামুন তালুকদার
নির্বাহী সম্পাদক :: সাইফুল ইসলাম
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক :: আবুল কালাম আজাদ
সংবাদ শিরোনাম :
শেখ হাসিনা এই দুটি হত্যাকান্ডের মধ্যে দিয়ে নিজের পায়ে কুড়াল মেরেছে-গয়েশ্বর ভোলায় পুলিশের বর্বরোচিত হামলায় নুরে আলম ও গুলিতে আব্দুর রহিম মৃধার মৃত্যুতে সরফুদ্দিন সান্টুর শোক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের উপ-স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবা সম্পাদক হলেন বরিশালের ডাঃ রাহাত আনোয়ার চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধার ক্ষোভ: “মালাউনের বাচ্চা” এখানে কেন? বাংলার টাইগার বাকেরগঞ্জ জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে ১ জন কে কুপিয়ে জখম সিলেটের বানভাসি মানুষের সাহায্যার্থে; বিএনপি মহাসচিবের হাতে ভোলা জেলা বিএনপি সভাপতির চেক হস্তান্তর বরিশালের উত্তর জনপদে যুবদলের ১২ টা বাজিয়ে ছাড়বে দুলাল, হাইকমান্ড পদক্ষেপ না নিলে প্রতিহতের ঘোষণা বরিশালের আলো’র সম্পাদক মোস্তফা কামাল জুয়েল’র পিতার মৃত্যুতে দখিনের খবর’র শোক দৈনিক বরিশালের আলো পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক মোস্তফা কামাল জুয়েল এর পিতার ইন্তেকাল, বাংলাদেশ সম্পাদক ফোরাম’র বরিশাল’র শোক

পটুয়াখালীতে সাগর ও নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে অন্তত ২০টি গ্রাম তলিয়ে গেছে

পটুয়াখালীতে সাগর ও নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে অন্তত ২০টি গ্রাম তলিয়ে গেছে

কাজী মামুন, পটুয়াখালী ॥ পটুয়াখালীর কুয়াকাটাসহ কলাপাড়া উপকূলীয় এলাকায় জোয়ারের পানিতে ভাসছে গ্রামের পর গ্রাম। সাগর ও নদীর পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়ে মহিপুরের নিজামপুর, লালুয়া ইউনিয়নসহ অন্তত:২০টি গ্রাম তলিয়ে গেছে। জোয়ারের পনিতে ডুবে থাকে বেঁচে থাকার শেষ আশ্রয়টুকু। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ভাঙা অংশ দিয়ে প্রতিদিনই দুই দফা পানিতে প্রবেশ করে তলিয়ে গেছে ফসলি জমিসহ মাছের ঘের। বন্ধ হয়ে গেছে কৃষকদের চাষাবাদ। ফলে মানবেতর জীবনযাপন করছে এলাকার মানুষ। ওইসব গ্রামে অধিকাংশ মানুষ এখন অনেকটাই জোয়ার-ভাটার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। এদিকে মহিপুর ইউনিয়নের নিজামপুর পয়েন্টের বাঁধটি এখন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। জোয়ারের পানির চাপে যে কোন সময় বাঁধটি ছুটে পাঁচ গ্রাম প্লাবিত হতে পাড়ে এমন আশংকার কথা জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, অমাবশ্যার প্রভাবে লালুয়া ইউনিয়নের বেড়িবাঁধের ভাঙা অংশ দিয়ে রাবনাবাদ নদীর জোয়ারের পানি প্রবেশ করে প্রামের পর গ্রাম প্লাবিত হচ্ছে। বানভাসী পরিবার গুলোর চোখের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। অস্বাভাবিক স্রোতের টানে মানুষ ভেসে বেড়ালেও তাদের আর্তনাদ কেউ শুনছে না। দেখা দিয়েছে চরম খাদ্য সংকট। এছাড়া এক গ্রাম থেকে অপর গ্রামের যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এর পরও ভেঙে যাওয়া বাঁধ সংস্কারে কোনো উদ্যেগ নেয়নি কেউ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিন ধরে লালুয়ার চারিপাড়া বেড়িবাঁধের ভেঙে যাওয়া অংশ দিয়ে রাবনাবাদ নদীর জোয়ারের পানি প্রবেশ করে চারিপাড়া, পশরবুনিয়া, ধঞ্জুপাড়া ও নয়াপাড়াসহ ১২/১৩ টি গ্রাম প্রতিদিন প্লাবিত হচ্ছে। এর ফলে ওইসব গ্রামের মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। ঘর-বাড়ীতে পানি ঢুকে পড়ায় অনেকেই অপেক্ষাকৃত উচুঁস্থানে আশ্রয় নিয়েছে। দেখা দিয়েছে গো-খাদ্যের সংকট। ফলে গরু কিংবা ছাগলের মালিকদের পড়েতে হয়েছে বিপাকে। এদিকে উপজেলার মহিপুর ইউনিয়নের নিজামপুর বাঁধটিও ঝুঁকিপূর্ন থাকায় জোয়ারের পানি চাঁপে যে কোন সময় বাঁধটি ছুটে কমরপুর, সুদিরপার, পুরান মহিপুর, ইউসুবপুর ও নিজামপুর গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশংকা করেছে স্থানীয়রা। এছাড়া দেবপুর বাঁধের ভাঙা অংশ দিয়ে অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হচ্ছে।নিজামপুর গ্রামে বাসিন্দা মো.নুরজামান হাওলাদার বলেন, ২০০৭ সালে ঘুনিঝড় সিডরের আঘাতে ভেঙে যায় নিজামপুর ও সুদিরপুরের বেরিবাঁধ। এরপর কয়েক দফা পনি উন্নয়ন বোর্ড অপরিকল্পিত ভাবে বর্ষা মৌসুমে নির্মান কাজ করলেও তা টেকসই না হওয়ায় এ বাঁধটি ফের ভাঙন শুরু হয়েছে।
লালুয়া ইউনিয়নের চারিপাড়া গ্রামের পানিবন্ধি মানসুরা বেগম বলেন, জোয়ার ভাটায় পানি উইড্ডা সব ডুইব্বা গ্যাছে। নদীতে পানি বাড়লে আমাগো নাওয়া খাওয়া ঘুম হারাম হইয়া যায়। মোগো বিপদের কোন শেষ থাকে না। তবে দু’দিন ধরে উনুনে হাড়ি দেয়নি বলে তিনি জানিয়েছেন। একই গ্রামের স্বামী পরিত্যাক্তা মরিয়ম বিবি বলেন, প্রতিদিন পানি বাড়লে তার ছেলে, ছেলে বৌ ও দুই নাতীকে নিয়ে চকির উপর বসে থাকতে হয়। কৃষক ইসহাক হাওলাদার বলেন, লবন পানিতে ক্ষেত খামার তলিয়ে রয়েছে। চাষাবাদও বন্ধ রয়েছে। পানি বৃদ্ধি পেলে ঘরের ভিতর ঢুকে পড়ে। বিশেষ করে অমাবশ্যা কিংবা পূর্নিমার জোয়ারের সময়ই এসমস্যা প্রকট আকার ধারন করে।লালুয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো.শওকত হোসেন তপন বিশ্বাস বলেন, এ বাঁধের বিষয় নিয়ে একাধিবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হয়েছে। কাজের কাজ কিছুই হয়নি। বরং অমাবশ্যা কিংবা পূর্নিমার জোবা হলে পরেই এ ইউনিয়নের ১২/১৩ টি গ্রামের মানুষ সবচেয়ে দূর্ভোগে থাকে। এসব মানুষের দূর্ভোগ লাগবে স্থায়ী বাঁেধর জন্য তিনি প্রধান মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। মহিপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম আকন বলেন, নির্মান কাজ শেষ হওয়ার এক বছর না যেতেই নিজামপুর বাঁধের ভাঙন শুরু হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে এ ব্যয়বহুল বেরিবাঁধটি রক্ষা করা সম্ভব নয়। আমি চেয়ারম্যান হওয়ার পর থেকেই দুই কিলোমিটার বেরিবাঁধটি পূর্ন নির্মানের জন্য মন্ত্রী,এমপি ও পনি উন্নয়ন বের্ডের দপ্তরে দৌড়ঝাপ করতে করতে আমার মেয়াদ প্রায় শেষের পথে। এর পরও কোন সুফল পাইনি। তাই এলাকার জনগনের স্বার্থে মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষন করছি। পটুুুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খান মোহাম্মদ ওয়ালীউজ্জামান বলেন, লালুয়া ও মহিপুরের নিজামপুর বেরি বাঁধের প্রকল্প মন্ত্রনালয় পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রনালয় থেকে জরুরী ভিক্তিতে যদি কোন প্রকল্প দেয়া হয় তাহলে কাজ করা সম্ভব বলে তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..



Leave a Reply

Your email address will not be published.




© All rights reserved © 2017 Dokhinerkhobor.Com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com