শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১, ০৮:১১ অপরাহ্ন

উপ-সম্পাদক :: দিদার সরদার
প্রধান সম্পাদক :: সমীর কুমার চাকলাদার
প্রকাশক ও সম্পাদক :: কাজী মোঃ জাহাঙ্গীর
যুগ্ম সম্পাদক :: মাসুদ রানা
সহ-সম্পাদক :: এস.এম জুলফিকার
প্রধান নির্বাহী সম্পাদক :: মামুন তালুকদার
নির্বাহী সম্পাদক :: সাইফুল ইসলাম
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক :: আবুল কালাম আজাদ
সংবাদ শিরোনাম :
বানারীপাড়ায় প্রধানমন্ত্রীর ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে যুবলীগের বৃক্ষ রোপন বানারীপাড়ায় প্লানবিহীন ভবন অপসারনের দাবীতে ব্যাবসায়ীদের মানববন্ধন বানারীপাড়ার সাংবাদিক এস মিজানুল ইসলাম “কবি কাজী নজরুল ইসলাম স্মৃতি পদক-২০২১” পেয়েছেন মাল্টা চাষে স্বাবলম্বী বানারীপাড়ার প্রবাসী হাবিবুর রহমান চালু হওয়ার অপেক্ষায় পটুয়াখালীর দুই মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র হিজলায় ৬শত ৪৭ শিশু শিক্ষার্থীর ভবিষ্যত অনিশ্চিত ঝালকাঠিতে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের মানববন্ধন ও স্মারকলিপি পেশ বরিশালে জবাইকৃত নিন্মমানের মহিষের মাংসসহ আটক ৩ মহান শিক্ষা দিবস উপলক্ষে বরিশালে ছাত্র সমাবেশ পটুয়াখালীর লাউকাঠী-লোহালিয়া নদীতে মাছের পোনা অবমুক্ত
মঠবাড়িয়ায় সরকারি সম্পত্তিতে পৌরমেয়র ফেরদৌসের স্থাপনা নির্মাণ

মঠবাড়িয়ায় সরকারি সম্পত্তিতে পৌরমেয়র ফেরদৌসের স্থাপনা নির্মাণ

মঠবাড়িয়া প্রতিবেদক ॥ পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি রফিউদ্দিন আহম্মেদ ফেরদৌসের বিরুদ্ধে সরকারি জমি দখল করে অবৈধভাবে ১৬টি দোকানঘর নির্মাণ করে ডিসিআর বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। অবৈধ স্থাপনা ভেঙে দেয়ার জন্য জনস্বার্থে পৌর এলাকার বাসিন্দা মজিবর রহমান ও হারুন-অর-রশিদ ভূমি মন্ত্রীসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। পৌর মেয়রের এমন কর্মকান্ডে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের মধ্যেও চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চরখালী-মঠবাড়িয়া-পাথরঘাটা আঞ্চলিক মহাসড়কের পৌর শহরের কে এম লতিফ ইনস্টিটিউশন এর ব্রিজ সংলগ্ন মহাসড়কের পাশে পূর্বের জরাজীর্ণ মাছ বাজার ভেঙে দিয়ে সেখানে ২৬ শতাংশ জমিতে এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ইজিপি টেন্ডারের মাধ্যমে পাঁচতলা ভবন নির্মাণ করছেন। আঞ্চলিক মহাসড়ক ও নবনির্মিত ভবনের উত্তর পাশে যারা সরকারের কাছ থেকে ডিসিআর বন্দোবস্ত নিয়ে দোকানঘর তুলে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা চালিয়ে আসছিল তাদেরকে সুকৌশলে ভবনের মধ্যে ব্যবসা করার ঘর দেয়ার শর্তে পৌর কর্তৃপক্ষ দোকানঘর ভেঙে দেয়। এরপর পৌর পরিষদ তথাকথিত একটি রেজুলেশন করে উপজেলা প্রশাসনকে না জানিয়ে ভবন নির্মাণের ডিজাইনের বাহিরে ব্যবসায়ীদের ভেঙে দেয়া ওই জমি ও ভবনের উত্তর পাশে মহাসড়ক লাগোয়া প্রায় ৫ কোটি টাকা মূল্যের সরকারি জমি দখল করে। পরে সেখানে ১৬টি দোকানঘর নির্মাণ করে ডিসিআর বাণিজ্য করার পায়তারা চালাচ্ছেন পৌর মেয়র রফিউদ্দিন আহ্মেদ ফেরদৌস। এছাড়া তিনি নির্মাণাধীন ভবনের নির্মাণ সামগ্রী মজুদ রাখার অজুহাতে ওই ভবনের পিছনে অর্ধকোটি টাকার একটি টিনশেড বিল্ডিং নির্মাণ করেন।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা এমাদুল হক খান জানান, ফুটপাত ও সরকারি জমি দখল করে দোকান ঘর নির্মাণ সম্পূর্ণ বেআইনি।বাসের সাথে একটি টেম্পু ক্রসিং হওয়ায় সময় পথচারী কিংবা স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী কোথাও গিয়ে দাঁড়াতে পারবেনা। ওখানে দোকান ঘর কোন সচেতন নাগরিকের কাম্য নয়। আমাদের সকল অর্জন ম্লান হয়ে যাবে।জনস্ববার্থের পরিপন্থী কোন কাজ জনগন মেনে নেবে। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মো. রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ জানান, আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে পাকা স্থাপনা নির্মাণের শুরুতেই আমি বাঁধা দিয়েছিলাম। পরে আমাকে পৌর কর্তৃপক্ষ অবহিত করেন যে, তাদের সাথে সরকারের নাকি চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। সে অনুযায়ী তারা স্থাপনা নির্মাণ করছেন। তবে ওই দোকানঘর নির্মানের ফলে জনসাধারণের দুর্ভোগ সৃষ্টি হবে। পিরোজপুর জেলা প্রশাসক আবু আলী মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, ডিজাইনের বাইরে ও মহাসড়কের পাশে কোন ধরনের দোকানঘর নির্মাণ করা যাবে না। অবৈধ স্থাপনা ভেঙে ফেলার জন্য মঠবাড়িয়ার ইউএনওকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
সরকারি হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও পিরোজপুর-৩ মঠবাড়িয়া আসনের সংসদ সদস্য মুঠোফোনে জানান, আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের বিষয়ে ভুমি মন্ত্রী ও সচিবকে অবহিত করা হয়েছে। তারা এ বিষয়ে জেলা প্রশাসককে উচ্ছেদের নির্দেশনা দিয়েছেন কিন্তু জেলা প্রশাসক কেন ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন না সেটা আমার বোধগম্য নয় ।
এ বিষয়ে পৌর মেয়র রফিক আহমেদ ফেরদৌসের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মহাসড়কে যানচলাচলে কোন ক্ষতি হবে না। ওই জায়গাটি ফাঁকা থাকলে মানুষ ময়লা আবর্জনা ফেলতে পারে সে কারণে দোকানঘর নির্মাণ করা হয়েছে। এডিবির অর্থায়নে নির্মাণাধীন ওই ভবনের আশেপাশে খাস খতিয়ানের জায়গায় অবৈধ দোকানঘর নির্মাণ করা যায় কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, আসলে বহুতল ভবনের পাশে দোকানঘর করা যায় না। তবে পৌর পরিষদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ২৬ শতাংশ জমিতে জেলা প্রশাসকের সাথে একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়। ভবনের উত্তর পাশের সরকারি জমি ভাসমান দোকানদারের দখলে না যায় সেজন্য পৌরসভা সেখানে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করেছে। হয় ওখানে দোকানঘর হবে, না হয় পাকা দেয়াল হবে। আর প্রশাসন যদি মনে করে দোকানগুলো অবৈধ তবে তারা ইচ্ছে করলে ভেঙে দিতে পারেন।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2017 Dokhinerkhobor.Com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com