বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১, ১২:৩০ পূর্বাহ্ন

উপ-সম্পাদক :: দিদার সরদার
প্রধান সম্পাদক :: সমীর কুমার চাকলাদার
প্রকাশক ও সম্পাদক :: কাজী মোঃ জাহাঙ্গীর
যুগ্ম সম্পাদক :: মাসুদ রানা
সহ-সম্পাদক :: এস.এম জুলফিকার
প্রধান নির্বাহী সম্পাদক :: মামুন তালুকদার
নির্বাহী সম্পাদক :: সাইফুল ইসলাম
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক :: আবুল কালাম আজাদ
সংবাদ শিরোনাম :
বানারীপাড়ায় প্রধানমন্ত্রীর ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে যুবলীগের বৃক্ষ রোপন বানারীপাড়ায় প্লানবিহীন ভবন অপসারনের দাবীতে ব্যাবসায়ীদের মানববন্ধন বানারীপাড়ার সাংবাদিক এস মিজানুল ইসলাম “কবি কাজী নজরুল ইসলাম স্মৃতি পদক-২০২১” পেয়েছেন মাল্টা চাষে স্বাবলম্বী বানারীপাড়ার প্রবাসী হাবিবুর রহমান চালু হওয়ার অপেক্ষায় পটুয়াখালীর দুই মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র হিজলায় ৬শত ৪৭ শিশু শিক্ষার্থীর ভবিষ্যত অনিশ্চিত ঝালকাঠিতে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের মানববন্ধন ও স্মারকলিপি পেশ বরিশালে জবাইকৃত নিন্মমানের মহিষের মাংসসহ আটক ৩ মহান শিক্ষা দিবস উপলক্ষে বরিশালে ছাত্র সমাবেশ পটুয়াখালীর লাউকাঠী-লোহালিয়া নদীতে মাছের পোনা অবমুক্ত
খাদ্য ও পানি সংকটে ভোলার চরাঞ্চলে মরছে মহিষ

খাদ্য ও পানি সংকটে ভোলার চরাঞ্চলে মরছে মহিষ

ভোলা প্রতিনিধি : খাদ্য ও পানি সংকটে ভোলার চরাঞ্চলগুলোতে মারা যাচ্ছে শত শত মহিষ। প্রতিদিন এভাবে মহিষের মৃত্যুর খবরে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন মালিকরা।

ভোলা জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের হিসাব অনুযায়ী, ছোট বড় মিলিয়ে পঁচিশটি চরে প্রায় চৌদ্দ হাজারের অধিক মহিষ রয়েছে এবং বাংলাদেশের আট ভাগের দুই ভাগ মহিষ রয়েছে ভোলায়। মহিষের মৃত্যুর জন্য মালিকরা দুটি সমস্যাকে দায়ী করেছেন। প্রথমত, তীব্র খাবার সংকট, দ্বিতীয়ত বিশুদ্ধ পানি সমস্যা।

সরেজমিনে জানা যায়, অগ্রহায়ন মাস থেকে চৈত্র মাস পর্যন্ত এসব চরে জোয়ারভাটার পানি ওঠে না। তাই নতুন ঘাসও জন্মায় না। যা জন্মায় তা মহিষের পায়ে পায়ে পিষ্ট  হয়ে নষ্ট হয়। এখন চরাঞ্চলগুলোতে ঘাসের মূল ছাড়া কিছুই নেই। তাই মহিষের দল কিছু খাওয়ার চেষ্টা করলে মুখের ভেতর মাটি চলে আসে। খাবারের স্বল্পতার সঙ্গে যখন মাটি খেয়ে ফেলা হয় তখন তা পেটে ডায়রিয়া সৃষ্টি করে। সাথে নতুন মাত্রা যোগ করে নদীর বর্তমানের লবণাক্ত পানি।  এতে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয় শাবক মহিষ। কারণ তারা প্রথমত মায়ের দুধের স্বল্পতার সঙ্গে কাঁচা ঘাস ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে পড়ে সবার আগে আক্রান্ত হয় ডায়রিয়ায়।

ভোলা সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. দীনেশ চন্দ্র মজুমদার বলেন, ‘সরেজমিনে মৃত মহিষের শরীরের বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা করেছি। ব্যাকটেরিয়াজনিত কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি। কোস্ট ট্রাস্ট, ব্রাক, গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা ও হিড বাংলাদেশ আমাদেরকে সহযোগিতা করেছে। সবার মতেই এখন কিছু সমস্যা আমরা শনাক্ত করেছি। অগ্রহায়ন থেকে চৈত্র মাস পর্যন্ত বিশুদ্ধ পানি  সরবরাহের জন্য পুকুর খনন করতে হবে। ঘাসের জন্য প্রাণি পুষ্টি উন্নয়ন ও প্রযুক্তির আওতায় লালমোহন ও চরফ্যাশনে একটি উন্নত প্রজাতির ঘাস উৎপাদনের জন্য প্রজেক্ট চালু রয়েছে। তবে মহিষ মালিকরা আমাদেরকে জমি প্রদান করে তাহলে ঘাস উৎপাদনের জন্য একটি  প্রজেক্ট চালু করতে পারি।

ভোলা মাঝের চরের মহিষ বাতান মালিক সমিতির সভাপতি জামাল উদ্দিন হাওলাদার বলেন, ‘আমদের সারা বছর কোনো না কোনো সমস্যায় লেগেই রয়েছে।সরকারি  বেসরকারিভাবে নামমাত্র সেবা প্রদান করা হয়ে থাকে। চরগুলো ভোলা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় চিকিৎসক পেতে অনেক সমস্যা হয়। আশপাশে পুকুর না থাকায় শীতে লোনা পানি খাওয়াতে হয়। বর্ষায় টিলা না থাকায় পানিতে ভেসে যায় অনেক মহিষ। সরকারিভাবে যদি এ চার মাসের জন্য কাঁচা ঘাসের ব্যবস্থা করা হয় তাহলে আমরা উপকৃত হতাম।

বাংলাদেশের পঁচাশি হাজার মহিষের মধ্যে ভোলায় রয়েছে চৌদ্দ হাজার। ভোলার জনপ্রিয় মিষ্টি ও দধির একমাত্র উপকরণ দুধের শতভাগ যোগান হয়ে থাকে এ চর থেকে। ভোলার শত বছরের ‌ঐতিহ্য আজ হারাবার পথে। বর্ষায় ইলিশ ও শীতে মহিষ যখন ভোলার জলদস্যুদের টার্গেট, ঠিক তখনই বিভিন্ন সমস্যায় কয়েক মাসে শত শত মহিষ মারা যাওয়ায় আতঙ্কে আছে মহিষ বাতান মলিকরা। প্রাণিসম্পদসহ জনপ্রশাসনের সমন্বিত প্রয়াস ছাড়া কোনো দিনই এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয় বলে জানান স্থানীয় মালিকরা।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2017 Dokhinerkhobor.Com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com