সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৭:৩৮ অপরাহ্ন

উপ-সম্পাদক :: দিদার সরদার
প্রধান সম্পাদক :: সমীর কুমার চাকলাদার
প্রকাশক ও সম্পাদক :: কাজী মোঃ জাহাঙ্গীর
যুগ্ম সম্পাদক :: মাসুদ রানা
সহ-সম্পাদক :: এস.এম জুলফিকার
প্রধান নির্বাহী সম্পাদক :: মামুন তালুকদার
নির্বাহী সম্পাদক :: সাইফুল ইসলাম
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক :: আবুল কালাম আজাদ
চরফ্যাশনে ডায়াগনস্টিক সেন্টার গুলোতে দালালের দৌরাত্ম্য

চরফ্যাশনে ডায়াগনস্টিক সেন্টার গুলোতে দালালের দৌরাত্ম্য

দখিনের খবর ডেস্ক ॥ ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা রোগীদেরকে সু-কৌশলে বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভাগিয়ে নিতে ব্যস্ত সময় পার করছে দালাল এম্বুলেন্স ড্রাইভারগন৷ অনুসন্ধানে দেখা যায়, চরফ্যাশন উপজেলায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে অসংখ্য মালিকানাধীন এম্বুলেন্স৷ খুব সহজেই রোগী আনা-নেয়ার প্রয়োজনে এম্বুলেন্স পাওয়া যায়৷ এখানে পৌরসভা, বিভিন্ন ইউনিয়ন, এমনকি প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের মানুষ তাদের প্রিয় স্বজন অসুস্থ হলে প্রথমে চরফ্যাশন সদর হাসপাতালে নেয়ার ইচ্ছা থাকে সবার৷ কিন্তু দেখা যায় এম্বুলেন্সে রোগী আনার পথিমধ্যে উন্নত চিকিৎসা, কমমূল্যে নির্ভুল পরীক্ষা-নিরীক্ষার ও ভালো ডাক্তারের আশ্বাস দিয়ে অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভারগণ রোগীকে তার পছন্দের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যায়৷ এতে প্রতারণার স্বীকার হয়ে অতিরিক্ত টাকা গুনতে হয় সাধারণ রোগীদের৷ হাসপাতালকে ঘিরে রাখা বৈধ-অবৈধ ৩৫টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার আর প্রাইভেট ক্লিনিকগুলোর মধ্যে অধিকাংশই রোগী পাওয়ার জন্য কমিশনের বিনিময়ে প্রায় ২০-২৫ টি এম্বুলেন্সের চালক নামের এসব দালাল পুষে রাখেন৷
ভুক্তভোগী আছলামপুর ইউনিয়ন ৮নং ওয়ার্ডের মিজানুর রহমান জানান, সরকারি হাসপাতালের উদ্দেশ্যে মাকে নিয়ে রওয়ানা হলেও পথিমধ্যে এম্বুলেন্স ড্রাইভার বিভিন্ন লোভনীয় অফার দিয়ে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যেতে তোড়জোড় শুরু করে৷ তার কথায় ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গেলে ৩ হাজার ৫শ টাকার পরীক্ষা করায় মাকে৷ পূর্বে দাম না করে বিলের কাগজ আমাকে দিলে রীতিমতো বিড়ম্বনায় পরি৷ কারণ আমার কাছে এত টাকা ছিলনা৷ অন্যের থেকে ধার করে টাকা পরিশোধ করতে হয় আমাকে৷ এসব অতিরিক্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা তারা ইচ্ছা করে করেছে৷ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নবগঠিত ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালনা কমিটির এক কর্মকর্তা এম্বুলেন্স ড্রাইভারদের দালালি কথা স্বীকার করে জানান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়ম-নীতি মেনে কিছু সংখ্যক ডায়াগনস্টিক সেন্টার থাকলেও বাকিদের কাগজপত্র, পরীক্ষার যন্ত্রপাতি, সঠিক প্যাথলজি বা সরকারি নীতিমালার তোয়াক্কা না করেই পরিচালিত হচ্ছে৷
কিছুদিন পূর্বে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছে৷ এ সকল প্রতিষ্ঠানের জন্য আমাদের সঠিক পথে চলা ভালো কিছু প্রতিষ্ঠানেরও বদনাম হচ্ছে৷ যা মানতে খুবই কষ্টকর৷ আমরা এসব অবৈধ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে কর্তৃপক্ষের নিকট অনুরোধ জানাচ্ছি৷ এবং ডাক্তারদের কে ওই সকল অবৈধ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের রিপোর্ট না দেখার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি৷ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চরফ্যাশনের এক এম্বুলেন্স ড্রাইভার জানান, কিছু সংখ্যক ড্রাইভার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সাথে গোপন ভাবে চুক্তিতে রোগীদেরকে ভুলিয়ে ভালিয়ে নিয়ে আসে৷ তাই বলে সবাই একরকম না এর মধ্যে অনেক ড্রাইভার ভালো আছে৷ চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইউএইচও শোভন বসাক জানান, এ সকল দালাল চক্রকে প্রতিহত করতে আমরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি৷ সাধারণ মানুষ যাতে সরকারি চিকিৎসা সেবা শতভাগ গ্রহণ করতে পারে সেটাই আমাদের কাম্য৷

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2017 Dokhinerkhobor.Com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com