সোমবার, ০১ মার্চ ২০২১, ১২:৫৭ অপরাহ্ন

উপ-সম্পাদক :: দিদার সরদার
প্রধান সম্পাদক :: সমীর কুমার চাকলাদার
প্রকাশক ও সম্পাদক :: কাজী মোঃ জাহাঙ্গীর
যুগ্ম সম্পাদক :: মাসুদ রানা
সহ-সম্পাদক :: এস.এম জুলফিকার
প্রধান নির্বাহী সম্পাদক :: মামুন তালুকদার
নির্বাহী সম্পাদক :: সাইফুল ইসলাম
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক :: আবুল কালাম আজাদ
ভাষার ব্যবহার ও প্রয়োগে ইসলামের নির্দেশনা

ভাষার ব্যবহার ও প্রয়োগে ইসলামের নির্দেশনা

দখিনের খবর ডেস্ক ॥ আমরা বাংলা ভাষায় কথা বলি এবং মনের ভাব প্রকাশ করি। বাংলা আমাদের মাতৃভাষা। যেকোনো ভাষায় মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা যায়। আল্লাহ শোনেন, বোঝেন এবং প্রার্থনা কবুল করেন। ভাষা কোনো ধর্মের প্রতিনিধিত্ব করে না, তবে ধর্ম তার নির্দেশনাবলি প্রকাশ এবং উপাসনার মাধ্যম হিসেবে একটি ভাষাকে গ্রহণ করে। সেটি সে ধর্মের দাপ্তরিক ভাষা। যেমন—ইসলাম ধর্মের দাপ্তরিক ভাষা আরবি। আরবি ভাষায় কোরআন অবতীর্ণ হয়েছে। মহানবী (সা.) আরবিভাষী হওয়ায় তাঁর কথা, কাজ ও সম্মতি, যা হাদিস হিসেবে পরিচিত, সেটিও আরবি ভাষায় বর্ণিত হয়েছে। আরবি আমাদের ধর্মের ভাষা। ধর্মচর্চার জন্য আরবি ভাষা শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। তবে মাতৃভাষার ব্যবহার ও প্রয়োগ পদ্ধতির ব্যাপারে ইসলামের সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। ভাষার বিচিত্রতা আল্লাহর অন্যতম নিদের্শন : পৃথিবীতে যেমন নানা বর্ণের মানুষ আছে, তেমনি নানাবিধ ভাষা আছে। সব ভাষাই মহান আল্লাহর দান। তিনিই মানুষকে কথা বলা শিখিয়েছেন। ভাষা ও বর্ণের ভিন্নতা তাঁর অন্যতম নিদর্শন। আল্লাহ বলেন, ‘আর তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে আছে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টি এবং তোমাদের ভাষা ও বর্ণের বৈচিত্র্য। এতে জ্ঞানীদের জন্য অবশ্যই অনেক নিদর্শন আছে।’ (সুরা : রুম, আয়াত : ২২) সঠিক কথা বলা : আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে মুমিনরা! আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো।’ (সুরা : আহজাব, আয়াত : ৭০) সঠিক কথার ব্যাখ্যা হলো, যে কথা চারটি বৈশিষ্ট্যে সমৃদ্ধ। (ক) বিশুদ্ধ হওয়া। (খ) সত্য হওয়া। (গ) গাম্ভীর্যপূর্ণ হওয়া; বিদ্রুপমূলক না হওয়া। (ঘ) কোমল হওয়া। স্পষ্ট ভাষায় কথা বলা : স্পষ্ট ও প্রাঞ্জল ভাষায় এমনভাবে কথা বলতে হবে, যেন সবাই তা বুঝতে পারে। মুসা (আ.)-এর মুখে জড়তা থাকায় তিনি আল্লাহর কাছে আবেদন করেছিলেন, ‘আমার ভাই হারুন সে আমার চেয়ে প্রাঞ্জলভাষী; অতএব তাকে আমার সাহায্যকারীরূপে প্রেরণ করো, সে আমাকে সমর্থন করবে। আমি আশঙ্কা করি তারা আমাকে মিথ্যাবাদী বলবে।’ (সুরা : কাসাস, আয়াত : ৩৪) স্পষ্ট ও প্রাঞ্জল ভাষা সবার জন্যই কাম্য বিষয়। প্রয়োজনে কোনো কথা তিনবার বলতে হবে, যেন সবাই তা বুঝতে পারে। কোরআন মজিদে অনেক কথা তিনবার করে বলা হয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘মহাপ্রলয়, মহাপ্রলয় কী? মহাপ্রলয় সম্পর্কে তুমি কী জান?’ (সুরা : আল-কারিয়া, আয়াত : ১-৩) এ ছাড়া নবী (সা.) অনেক কথা তিনবার করে বলতেন। আনাস (রা.) হতে বর্ণিত, নবী (সা.) যখন কোনো কথা বলতেন তা তিনবার বলতেন, যেন তা বোঝা যায়। (বুখারি, হাদিস : ৯৫) শালীন ভাষায় কথা বলা : সর্বদা শালীন ভাষায় কথা বলা উচিত। কাউকে ভর্ৎসনা, গালমন্দ ও অভিসম্পাতমূলক, অশ্লীল ও অশালীন কথা ঈমানদারের জন্য শোভনীয় নয়। আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, মুমিন ব্যক্তি কারো প্রতি ভর্ৎসনা ও অভিসম্পাত করে না এবং অশ্লীল ও অশালীন কথা বলে না। (তিরমিজি, হাদিস : ১৯৭৭) আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, কোনো মুসলমানকে গালি দেওয়া পাপ আর তার সঙ্গে লড়াই করা কুফরি। (বুখারি, হাদিস : ৪৮; মুসলিম, হাদিস : ২৩০) অনর্থক কথন থেকে বেঁচে থাকা : যেসব কথার দ্বারা ইহকালীন ও পরকালীন কোনো উপকার নেই, ঈমানদার ব্যক্তির এসব কথা থেকে বেঁচে থাকা খুবই দরকার। আল্লাহ তাআলা অনর্থক কথন থেকে বেঁচে থাকাকে মুমিন ব্যক্তির অন্যতম নিদর্শন হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। আল্লাহ বলেন, ‘অবশ্যই সফলকাম হয়েছে মুমিনরা, যারা বিনয়-নম্র নিজেদের নামাজে, আর যারা অনর্থক কথন থেকে বেঁচে থাকে।’ (সুরা : আল-মুমিনুন, আয়াত : ১-৩) হাদিসে এসেছে, আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) বলেন, ‘মানুষের ইসলামের সৌন্দর্য হলো সে অহেতুক কথা ও কাজ পরিহার করে।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৩১৮) ব্যঙ্গাত্মকভাবে কথা না বলা : কাউকে বিদ্রুপ, দোষারোপ, অবমাননাকর ও মন্দ নামে ডাকা কোনো ঈমানদারের ভাষা হতে পারে না। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা একে অপরের প্রতি দোষারোপ কোরো না এবং তোমরা একে অন্যকে মন্দ নামে ডেকো না…।’ (সুরা : হুজরাত, আয়াত : ১১) ঝগড়া ও দ্বন্দ্বমূলক ভাষা এড়িয়ে চলা : আল্লাহ তাআলা তাঁর একনিষ্ঠ বান্দার পরিচয় দিতে গিয়ে বলেছেন, ‘রহমান-এর বান্দা তারাই যারা পৃথিবীতে নম্রভাবে চলাফেরা করে এবং যখন অজ্ঞ লোকেরা তাদের সম্বোধন করে তখন তারা বলে সালাম।’ (সুরা : ফোরকান, আয়াত : ৬৩) অর্থাৎ তারা শান্তি কামনা করে এবং তর্কে জড়ায় না। পরিশেষে বলা যায়, ভাষার ব্যবহার ও প্রয়োগে সংযত হতে হবে। বিশুদ্ধ, স্পষ্ট ও শালীন ভাষায় কথা বলতে হবে। অশ্লীল, অনর্থক, ব্যঙ্গাত্মক, ঝগড়া ও দ্বন্দ্বমূলক ভাষা পরিহার করতে হবে। সর্বোপরি বলার ক্ষেত্রেও মহান আল্লাহর কাছে জবাবদিহির বিষয়টি স্মরণ রাখতে হবে। ভাষার এই মাসে এমন সচেতনতা একান্ত কাম্য। মহান আল্লাহ সবাইকে তাওফিক দান করুন। লেখক : সহযোগী অধ্যাপক. আরবি বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2017 Dokhinerkhobor.Com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com