সোমবার, ০১ মার্চ ২০২১, ০৭:২৪ অপরাহ্ন

উপ-সম্পাদক :: দিদার সরদার
প্রধান সম্পাদক :: সমীর কুমার চাকলাদার
প্রকাশক ও সম্পাদক :: কাজী মোঃ জাহাঙ্গীর
যুগ্ম সম্পাদক :: মাসুদ রানা
সহ-সম্পাদক :: এস.এম জুলফিকার
প্রধান নির্বাহী সম্পাদক :: মামুন তালুকদার
নির্বাহী সম্পাদক :: সাইফুল ইসলাম
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক :: আবুল কালাম আজাদ
ভক্তদের মনে বেঁচে আছেন তারা

ভক্তদের মনে বেঁচে আছেন তারা

গত ১৪ জুন মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় কার্টার রোডের বাসা থেকে বলিউড অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। জনপ্রিয় এই নায়ক ভক্তদের কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন মাত্র ৩৪ বছর বয়সে। আমাদের দেশেও কিছু ক্ষণজন্মা অভিনেতা ছিলেন। যারা অকালেই তাদের ভক্তদের কাঁদিয়ে পৃথিবীকে বিদায় জানিয়েছিলেন। যাদের আজও ভোলেননি ভক্তরা। লিখেছেন-ফয়সাল আহমেদ

জাফর ইকবাল

সুদর্শন চেহারার জাফর ইকবাল চলচ্চিত্রে আসার আগে গায়ক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন। তার সময়ে সবচেয়ে স্মার্ট ও স্টাইলিশ নায়ক বলা হতো তাকে। তার গাওয়া ‘সুখে থেকো ও আমার নন্দিনী’ গানটি শোনেননি, এমন মানুষ কমই পাওয়া যাবে। আবার ‘হয় যদি বদনাম হোক আরও’ গানটিও বেশ জনপ্রিয়। এ গানটি ‘বদনাম’ ছবিতে ব্যবহার করা হয়েছিল। আরও অনেক গানই গেয়েছিলেন জাফর ইকবাল। চলচ্চিত্রে আসার পর গান গাওয়া কমে যায় তার। শহরে জন্ম নিয়েও শহুরে গল্পের ছবির পাশাপাশি গ্রামীণ গল্পের চলচ্চিত্রেও নিজেকে মানিয়ে নিয়েছিলেন। ‘নয়নের আলো’ ছবি তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ। ছবিটিতে একজন গায়কের চরিত্রে অভিনয় করে জনপ্রিয়তা ও ভালোবাসা কুড়িয়েছিলেন।

জাফর ইকবাল অভিনীত প্রথম ছবি ‘আপন পর’। সব মিলিয়ে তিনি দেড়শর বেশি চলচ্চিত্র করেছিলেন। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য ছবির মধ্যে রয়েছে- ‘মাস্তান’, ‘ভাই বন্ধু’, ‘চোরের বউ’, ‘অবদান’, ‘সাধারণ মেয়ে’, ‘অবুঝ হৃদয়’, ‘ওগো বিদেশিনী’, ‘নবাব’, ‘ফুলের মালা’, ‘প্রতিরোধ’, ‘সন্ধি’, ‘সাত রাজার ধন’, ‘এক মুঠো ভাত’, ‘দিনের পর দিন’, ‘বেদ্বীন’, ‘মেঘ বিজলি বাদল’, ‘ফকির মজনু শাহ’ ও ‘মিস লঙ্কা’। জাফর ইকবাল ছিলেন একজন মুক্তিযোদ্ধা। এই মুক্তিযোদ্ধা নায়ক ও গায়ক ১৯৯১ সালের ২৭ এপ্রিল মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর এত বছর পরও ভক্তরা তাকে ভোলেননি। তিনি তার কাজের মাধ্যমে অগণিত ভক্তের হৃদয়ে চিরসবুজ হয়েই বেঁচে আছেন।

সোহেল চৌধুরী

বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম সুদর্শন নায়ক ছিলেন সোহেল চৌধুরী। ১৯৮৪ সালে ‘নতুন মুখের সন্ধানে’ নামে একটি মেধা অনুসন্ধানমূলক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হওয়ার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে আগমন ঘটে তার ও দিতির। পরে তাদের মাঝে প্রেম হয় এবং তা বিয়ের মাধ্যমে পরিণতি পায়। ‘নতুন মুখের সন্ধানে’ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হওয়ায় চলচ্চিত্রে অভিনয়ের আগেই সোহেল চৌধুরী গণমাধ্যমে বেশ প্রচার পান। সুদর্শন চেহারার কল্যাণে রীতিমতো উঠতি তারকা বলে ধরা হয় তাকে। এর মধ্যে প্রখ্যাত পরিচালক এফ কবীর চৌধুরী তাকে আর দিতিকে নিয়ে ‘পর্বত’ নামে একটি ছবি নির্মাণ করেন। এটি মুক্তির পর মোটামুটি ব্যবসা করে এবং দুজনের অভিনয়ই প্রশংসিত হয়। এর পর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি সোহেল চৌধুরীকে।

কাজ করতে শুরু করেন একের পর এক ব্যবসাসফল ছবিতে। তার চুলের স্টাইল সে সময়ের তরুণদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। সেই সময়ে তার পোশাকের স্টাইল ও গ্ল্যামার দর্শকদের খুব আকৃষ্ট করত। সোহেল চৌধুরীর ক্যারিয়ারে ছবির সংখ্যা ৩০। ১৯৯৮ সালের ১৭ ডিসেম্বর রাতে সন্ত্রাসীদের গুলিতে মারা যান তিনি। সেই ঘটনায় তার এক বন্ধুও মারা যান। তার ওপর গুলির ঘটনার পরপরই সাধারণ জনতা আদনান সিদ্দিকী নামের এক সন্ত্রাসীকে ধরে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। মৃত্যুর এত বছর পরও তার হত্যার বিচার আজও ঝুলে রয়েছে। স্বজন, সহকর্মী এবং তার ভক্তরা আজও ভোলেননি তাকে। তিনি এখনো বাংলা চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মাঝে বেঁচে আছেন।

জসিম

আশির দশকের সফল ও অন্যতম জনপ্রিয় নায়ক জসিম। তিনি ছিলেন একাধারে অভিনেতা, ফাইট ডিরেক্টর, প্রযোজক ও পরিবেশক। বাংলা ছবিতে তার আগমন খলনায়ক হিসেবে। ১৯৭৩ সালে ‘রংবাজ’ (বাংলাদেশের প্রথম অ্যাকশন দৃশ্য যুক্ত করা ছবি) ছবি দিয়ে তিনি ক্যারিয়ার শুরু করেন। একই বছর ‘দোস্ত দুশমন’ ছবিতে তার অভিনয় ব্যাপক আলোচিত হয়। হিন্দি ‘শোলে’ ছবির এই রিমেকে তিনি গাব্বার সিং চরিত্রে কাজ করেন। এর পর খলনায়ক হিসেবে দীর্ঘদিন একক রাজত্ব করেন জসিম। খলনায়ক হিসেবে তার উল্লেখযোগ্য ছবি হচ্ছেÑ ‘রংবাজ’, ‘রাজ দুলারী’, ‘দোস্ত দুশমন’, ‘তুফান’, ‘জবাব’, ‘নাগ নাগিনী’, ‘বদলা’, ‘বারুদ’ প্রভৃতি। খলনায়ক চরিত্রে অভিনয় শুরু করলেও নায়ক হিসেবেই সফলতা পান জসিম।

‘সবুজ সাথী’ ছবির মধ্য দিয়ে নায়ক হিসেবে আবির্ভাব ঘটে তার। যেসব চলচ্চিত্রে নায়ক হিসেবে দেখা গেছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- ‘পরিবার’, ‘রাজা বাবু’, ‘বুকের ধন’, ‘স্বামী কেন আসামি’, ‘লাল গোলাপ’, ‘দাগী’, ‘টাইগার’, ‘হাবিলদার’ প্রভৃতি। সব মিলিয়ে জসিম অভিনীত চলচ্চিত্রের সংখ্যা দুই শতাধিক। ১৯৯৮ সালের ৮ অক্টোবর না ফেরার দেশে চলে যান জসিম। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারণে মৃত্যু হয় তার। মৃত্যুর এত বছর পরও এই শক্তিমান অভিনেতা মানুষের হৃদয়ে বেঁচে আছেন। সেই সময়কার উত্তরবঙ্গের চলচ্চিত্রপ্রেমীদের আজও আঞ্চলিক ভাষায় বলতে শোনা যায়, ‘জসিম হামার নায়ক’। হামার’ মানে আমাদের।

মান্না

মানুষ বাঁচে তার কর্মে। যাদের কর্ম অনেক ভালো থাকে, তারা মৃত্যুর পরও সবার মাঝে তাদের কর্ম দিয়ে বেঁচে থাকেন আজীবন। বাংলা চলচ্চিত্রে নায়ক মান্না তেমনই একজন। মৃত্যুর এত বছর পরও মানুষের মনে আজও বেঁচে আছেন তিনি। ছোটবেলায় অনেকের ইচ্ছা থাকে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার কিংবা জজ ব্যারিস্টার হওয়ার। তবে ব্যতিক্রম ছিলেন মান্না। তার ইচ্ছা ছিল নায়ক হওয়ার। একদিন বলাকা সিনেমা হলে ছবি দেখতে গিয়ে চোখে পড়ে ‘নতুন মুখের সন্ধানে’ বিজ্ঞাপন। এর পর টিভি আর পত্রিকায় দেখে বন্ধুদের সঙ্গে পরামর্শ করে ইন্টারভিউ দেন। সুযোগও পেয়ে যান।

১৯৮৬ সালে ‘তওবা’ ছবির মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে মান্নার। এর পর কাজ করে গেছেন দুশর অধিক ছবিতে। নব্বইয়ের দশকে অশ্লীল চলচ্চিত্র নির্মাণের ধারা শুরু হলে যে কয়জন প্রথমেই এর প্রতিবাদ করেছিলেন, তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন মান্না। রীতিমতো যুদ্ধ করেছেন অশ্লীল ছবির বিরুদ্ধে। ‘দাঙ্গা’, ‘লুটতরাজ’, ‘তেজী’, ‘আম্মাজান’, ‘আব্বাজান’ প্রভৃতি চলচ্চিত্রে চমৎকার অভিনয়ের মাধ্যমে জনপ্রিয়তার চূড়া ছুঁয়েছিলেন তিনি। ২০০৮ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি আকস্মিকভাবে সবাইকে কাঁদিয়ে এ পৃথিবী ছেড়ে চলে যান মান্না। মান্না চলে যাওয়ার ১২ বছর পার হলেও তিনি বেঁচে আছেন অসংখ্য ভক্তের হৃদয়ে। এখনো ভক্তরা বিভিন্নভাবে তাকে স্মরণ করেন।

সালমান শাহ

বাংলা চলচ্চিত্রের সবচেয়ে আলোচিত ও সুদর্শন নায়ক সালমান শাহ। ১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ছবি দিয়ে আগমন ঘটে তার। এর পর উপহার দিয়েছেন একের পর এক ব্যবসাসফল ছবি। দর্শকরা হুমড়ি খেয়ে সিনেমা হলে যেতেন তার ছবি দেখতে। বাংলাদেশের সব জায়গাতে সমান জনপ্রিয় ছিলেন সালমান শাহ। একঘেয়ে অভিনয় আর স্টাইল দেখতে দেখতে দর্শক যখন ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল, তখন তিনি দর্শকের সামনে হাজির হন নতুনের আবাহন হিসেবে। তার রোমান্টিক, মেলোড্রামা, ফ্যামিলি ড্রামা, অ্যাকশন ও প্রতিবাদ- সব চরিত্রেই ছিল নতুনত্বের স্বাদ।

তার কাউবয় হ্যাট, গগলস, লং কোটে ডিটেকটিভ লুক, হুডি শার্ট, ব্যাক ব্রাশ করা চুল, কানে দুল, ফেড জিন্স, মাথার স্কার্ফ আর ফ্যাশন সেন্- সবকিছু মিলিয়ে এক অদেখা জোনের মধ্যে দর্শকেরা পড়ে গিয়েছিল। তিনি ছিলেন তারুণ্যের স্টাইল আইকন। সালমান মোট ২৭টি ছবিতে অভিনয় করেছেন, যার বেশিরভাগ ছিল ব্যবসাসফল। জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা অবস্থায় অগণিত ভক্তকে কাঁদিয়ে ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রহস্যজনকভাবে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। মৃত্যুর এত বছর পরও চলচ্চিত্রপ্রেমীরা তাকে বিন্দুমাত্র ভোলেননি। প্রিয় অভিনেতাকে শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করেন। প্রতিটি জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকীতে ভক্তরা দোয়ার আয়োজন করেন।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2017 Dokhinerkhobor.Com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com