সরদার নজরুল ইসলাম, বানারীপাড়া প্রতিনিধি ॥ বানারীপাড়া উপজেলায় ৭টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীর বিপরীতে স্বতন্ত্র ব্যানারে ২১জন বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। এছাড়াও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)’র ১ জন ও ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি)”র ২ জন প্রার্থী রয়েছেন। ফলে বিদ্রোহী প্রার্থীরা নৌকার প্রার্থীদের গলার কাঁটায় পরিণত হয়েছেন। বিএনপির প্রার্থী নেই তবুও স্বস্তিতে ফাঁকা মাঠে গোল দেওয়ার সুযোগটি হাতছাড়া হয়ে গেছে নৌকার প্রার্থীদের। ফলে আওয়ামী লীগেও বিভক্তি বাড়ছে। ১নং বিশারকান্দি ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মো. ওমর ফারুক, মো. জাকির হোসেন (বাহাদুর), মো. আলাউদ্দিন বাবুল ও মো. মোয়াজ্জেম হোসেন। এখানে নৌকার প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-প্রচার সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম সান্ত [শান্ত]। ২নং ইলুহারে ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মো. আব্দুস সালাম ও উপজেলা শেখ রাসেল শিশু-কিশোর পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল বাশার বাদশা। এখানে নৌকার প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম। ৪নং চাখার ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. খিজির সরদার, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. ওয়াহিদুজ্জামান মিলন ও আইয়ুব সিকদার। এনপিপি’র প্রার্থী হয়েছেন মো. মামুন সিকদার। উপজেলা জাসদের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ হুমায়ুন কবির হত্যা মামলার চার্জশীটভুক্ত আসামি উপজেলা আওয়ামী লীগর সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ মজিবুল ইসলাম টুকুকে নৌকার প্রার্থী করায় নিজ দলের পাশাপাশি জাসদ নেতাকর্মীদের মাঝেও চরম ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আ. মালেক হাওলাদারসহ উল্লেখযোগ্য কাউকেই তার সঙ্গে দেখা যায়নি। ৫নং সলিয়াবাকপুর ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন যুবলীগ নেতা মো. শফিকুল ইসলাম (দুলাল তালুকদার)। এখানে এনপিপি’র প্রার্থী হয়েছেন কাজী হাফিজুর রহমান। এ ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান। ৬নং বাইশারী ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থীর বিপরীতে সর্বোচ্চ ৬ জন প্রার্থী। এরা হলেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. তাজেম আলী হাওলাদার, সহ-সভাপতি মো. সামসুর রহমান (সেলিম সরদার), মো. আবুল কালাম হাওলাদার, মো. সালাহ্উদ্দিন মিন্টু, মো. খায়রুল আলম (খায়রুল মাল), মো. খোকন সিকদার ও এ. কে. আজাদ। এদের মধ্যে এ. কে. আজাদ জাসদ মনোনীত প্রার্থী। বাইশারী ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শ্যামল চক্রবর্তী। ৭নং বানারীপাড়া সদর ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক মো. আবুল কালাম আজাদ এবং উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক মু. মুনতাকীম লস্কর (কায়েস)। এখানে নৌকার প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান চেয়ারম্যান আ. জলিল ঘরামী। ৮নং উদয়কাঠি ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন আওয়ামী লীগের সাবেক দুই চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুর রহমান (মাহবুব তালুকদার) ও মো. মামুন-উর-রশিদ (স্বপন তালুকদার) এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদুল হাসান (মিলন মুন্সী)। এ ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ সভাপতি মো. গোলাম মোস্তফা (মোস্তফা তালুকদার) দলীয় প্রার্থীর পাশে নেই। তিনি অবস্থান নিয়েছেন তার দুই ভাই বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক দুই চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুর রহমান ও মো. মামুন-উর-রশিদের। উদয়কাঠি ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক মো. রাহাদ আহম্মেদ ননী। এদিকে ৭ ইউনিয়নে সাধারণ সদস্য পদে ২৫৫ ও সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ৭৫ জন তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বলে উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (নিক) ঘোষিত প্রথম ধাপে ৩৭১ উপজেলায় নির্বাচন হবে ১১ এপ্রিল। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী বানারীপাড়ায় ৭টি ইউপিতে ভোটগ্রহণ হবে ১১ এপ্রিল। উপজেলার অপর ইউনিয়ন সৈয়দকাঠিতে নির্বাচনের দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
Leave a Reply