সোমবার, ২৩ নভেম্বর ২০২০, ০৬:২২ অপরাহ্ন

উপ-সম্পাদক :: দিদার সরদার
প্রধান সম্পাদক :: সমীর কুমার চাকলাদার
প্রকাশক ও সম্পাদক :: কাজী মোঃ জাহাঙ্গীর
যুগ্ম সম্পাদক :: মাসুদ রানা
সহ-সম্পাদক :: এস.এম জুলফিকার
প্রধান নির্বাহী সম্পাদক :: মামুন তালুকদার
নির্বাহী সম্পাদক :: সাইফুল ইসলাম
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক :: আবুল কালাম আজাদ
ঝালকাঠিতে মুচি পরিবারকে ভিটা-মাটি ছাড়া করতে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ

ঝালকাঠিতে মুচি পরিবারকে ভিটা-মাটি ছাড়া করতে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ

গাজী মো.গিয়াস উদ্দিন, ঝালকাঠি ॥ ঝালকাঠি সদর উপজেলার বাউকাঠি গ্রামের এক অসহায় ঋষি (মুচি) পরিবারকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। দীর্ঘ দিন ধরে লোলুপ দৃষ্টিতে পড়া এ পরিবারটির একটুকরো মাথাগোঁজার ঠাঁই একমাত্র সম্বল ৩ কাঠা জমিই ইয়াবা উদ্ধারের কারণ বলে অসহায় সংখ্যালঘু পরিবারটির দাবী।
ঝালকাঠি সদর থানার ওসি মো: খলিলুর রহমান জানান, সোমবার দুপুর ১২টা দিকে সদর উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের বাউকাঠি গ্রামের রবীন দাসের বাড়িতে গোপন সংবাদে পুলিশ অভিযান করে। এসময় রবীন দাসের (৪৫) ঘরের সামনের বারান্দার আড়ায় লুকানো অবস্থায় ১১পিস ইয়াবা উদ্ধার হয়। এ ঘটনায় রবীন দাসকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।
রবীন দাসের ছোট বোন সবিতা দাস (৩০) স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের বারান্দায় ফুটপাতে মুচির কাজ করে ভাইয়ের সংবারের জীবিকার সহায়তা করে আসছেন। তিনি ঝালকাঠি জেলার একমাত্র নারী মুচি। তিনি বলেন, আমার ভাই পান-সিগারেটও খায় না। কসাইয়ের কাজ করে সংসার চালায়। আমাদের এই জমিটুকোই কাল। অনেক বছর ধরে এলাকার একটি মহল এই জমি কিনতে চায়। তারা বিভিন্ন সময় আমাদের বাড়ি ঘর ছাড়তেও হুমকী দিয়ে আসছে। নানা অজুহাতে এলাকার কিছু লোক আমাদের ঘরেও প্রায়ই আসে। তাদের মানা করলে আমাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করে। ঝালকাঠির জীবন সংগ্রামী এ নারী মুচি সবিতা আরও বলেন, আমরা যদি ইয়াবা বেচতাম তাহলে নারী হয়ে আমাকে ফুটপাতে অন্যের জুতা সেলাই করতে হত না। পৈত্রিক সম্পত্তির মোট ৫ কাঠা জমির ২ কাঠা খালে বিলিন হয়ে গেছে জানিয়ে সবিতা আরও বলেন, এখন তিন কাঠা জমিতে ভাঙা ঘরে আমারা থাকি। ঘরের সামনে আমাদের জমিতেই দোকান ঘর উঠিয়ে অন্যরা ভাড়া আদায় করে খায়। আমরা তাতেও বাঁধা দিতে সাহস পাইনা। এখন শেষ সম্বল জমিটুকু গ্রাস করতে এই ইয়াবা উদ্ধারের নাটক সাজানো হয়েছে বলে দাবী করেন সবিতা।
এব্যপারে সদর থানার ওসি মো. খলিলুর রহমান বলেন, এ পরিবারটি যদি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে থাকে সেটা তদন্তে বেড়িয়ে আসবে। পুলিশ সঠিক তদন্ত করবে বলেও জানান ওসি।
প্রসঙ্গত, সদর উপজেলার এ অসহায় পরিবারটি বংশ পরমপরায় ওই গ্রামে বসবাস করে আসছে। বরীন দাসের বাবা প্রয়াত সতিষ দাস পেশায় একজন মুচি ছিলেন। তার কাছে শেখা মুচির কাজ করেই সবিতার জীবিকা চলে। আর ভাই রবীন কসাইয়ের কাজ করেন। রবীন ছড়াও সংসারে তার স্ত্রী, প্রতিবন্ধী শিশু ছেলে এবং তিন বোনকে নিয়ে চরম দারিদ্রতায় বসবাস করে আসছেন।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2017 Dokhinerkhobor.Com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com