বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ০১:৩৬ অপরাহ্ন

প্রধান পৃষ্ঠপোষকঃ মোহাম্মদ রফিকুল আমীন
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ জহির উদ্দিন স্বপন
সম্পাদক মণ্ডলীর সভাপতিঃ এস. সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু
প্রধান সম্পাদকঃ লায়ন এস দিদার সরদার
সম্পাদকঃ কাজী মোঃ জাহাঙ্গীর
যুগ্ম সম্পাদকঃ মাসুদ রানা পলাশ
সহকারী সম্পাদকঃ লায়ন এসএম জুলফিকার
সংবাদ শিরোনাম :
কোন অন্যায়কে প্রশ্রয় দেননি বলেই বেগম জিয়া ‘একজন আপোষহীন নেত্রী’-আবু নাসের মো: রহমাতুল্লাহ আন্তর্জাতিক সাংবাদিক আইনি প্রতিকার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এক জাঁকজমকপূর্ণ ইফতার দোয়া মাহফিল রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকান্ডে প্রশংসিত বরিশাল উত্তর জেলা নারী নেত্রী বাহাদুর সাজেদা বরিশালে সাংগঠনিক সফরে আসছেন জাতীয় নাগরিক কমিটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব ডা: মাহমুদা মিতু দুই দিনের সফরে আজ বরিশাল আসছেন অতিথি গ্রুপ অব কোম্পানির এমডি লায়ন সাইফুল ইসলাম সোহেল  পিরোজপুর ভান্ডারিয়ার যুব মহিলা লীগ নেত্রী জুথি গ্রেফতার গৌরনদীতে তিন দফা দাবি আদায়ে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল উপজেলা প্রশাসনকে ১৫ দিনের আল্টিমেটাম গ্রেনেড হামলার মামলা থেকে তারেক রহমানসহ বিএনপি নেতারা খালাস পাওয়ায় গৌরনদীতে আনন্দ মিছিল বরিশালের বাকেরগঞ্জসহ চারটি থানা এবং উপজেলায় নাগরিক কমিটি গঠন   আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনা বিহীন বাংলাদেশ শান্তিতে থাকবে, এটা অনেকেরই ভালো লাগেনা-এম. জহির উদ্দিন স্বপন
ব্যাংকিং নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে

ব্যাংকিং নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে

মকসুদুজ্জমান লস্কর:

করোনাকালে ব্যাংকিং নিয়ে নানা রকম চ্যালেঞ্জের কথা আলোচনা হচ্ছে। করোনা-পরবর্তী ভবিষ্যৎ নিয়ে ব্যাংকগুলো চিন্তিত। এ বছরের অর্ধবার্ষিক হিসাব সমাপনীর লাভ-লোকসানের খতিয়ান বাংলাদেশের ব্যাংক ব্যবস্থাপনাকে দুশ্চিন্তায় ফেলতে পারে। করোনা সামনে নতুন কী প্রভাব ফেলবে সে সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো ধারণা অনেকটাই অস্পষ্ট। ব্যাংকগুলো এখন থেকেই নিজস্ব বিবেচনায় বেতন-ভাতা হ্রাস কিংবা জনবল ছাঁটাইয়ের মতো খরচ কমানোর কিছু সনাতনী পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে।

ব্যাংকিং সম্পর্কে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। সনাতনী ব্যাংকিংকে গতকালের গল্প হিসেবে ভেবে রূপান্তর বা পরিবর্তনের দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় এসেছে। বিশ্বে ব্যাংকিং খাতে চলছে পরিবর্তন আর রূপান্তরের হাওয়া। সম্প্রতি টেক জায়ান্ট গুগল জার্মানির ডয়েচ ব্যাংকের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্বের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। গ্রাহক সেবা এবং গ্রাহক অভিজ্ঞতার আলোকে ব্যাংকিংকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করা এবং ফিনটেকের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো এবং ক্লাউড ব্যাংকিংয়ে পদার্পণের জন্য এ উদ্যোগ।

করোনা, সুদের নয়ছয়ের বেড়াজাল আর খেলাপি ঋণের সংকট; সর্বোপরি করোনাজনিত অর্থনৈতিক মন্দা মোকাবেলায় সরকার ঘোষিত প্রণোদনা ঋণ প্যাকেজগুলোর বাস্তবায়নে রেগুলেটরি বাধ্যবাধকতা ব্যাংকিং খাতকে ওলটপালট করে দিচ্ছে। এমনিতেই বিগত কয়েক বছর ধরে ব্যাংকিং খাত নানা জটিলতায় ভুগছে। এসব জটিলতা থেকে বের হয়ে আসার জন্য ব্যাংকিং খাত যথেষ্ট দক্ষতা দেখাতে পারছে কিনা প্রশ্ন থেকেই যায়। অনেকে দেশের ব্যাংকিং নীতিকাঠামো সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন; কিন্তু ব্যাংকগুলোর অভ্যন্তরীণ সংস্কার, পরিবর্তন, রূপান্তর এবং দক্ষতা বৃদ্ধি কতটা প্রয়োজনীয় ও জরুরি সেই বিষয়টি আলোচনায় কম আসছে। অনেকে বলে থাকেন, দীর্ঘদিন ধরে লালন-পালন করা একই ধাঁচের পুরনো প্রতিষ্ঠানগুলো পরিবর্তন বা রূপান্তর খুবই জটিল কাজ। লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে তিন থেকে চার দশকের পুরনো কিছু ব্যাংক গতানুগতিকতার বাইরে গিয়ে বেশকিছু অভিনবত্ব আনার চেষ্টা করেছে। পুরনো কর্মীদের ছাঁটাই বা সাইড লাইনে রেখে, ব্যবস্থাপনাকে পরিবর্তন করে, বাইরে থেকে নতুন কর্মী এনে পরিবর্তনের চেষ্টা করেছে; কিন্তু তারা দীর্ঘমেয়াদে সফল হতে পারছে না। তাদেরও সংকট মোকাবেলায় বেতনভাতা হ্রাস কিংবা কর্মী ছাঁটাইয়ের মতো সহজ পথে হাঁটতে হচ্ছে; কিন্তু শীর্ষপদে পরিবর্তন কিংবা কিছু কর্মী অন্য ব্যাংক থেকে উচ্চ বেতনে এনে বসিয়ে দিয়ে ব্যাংকের অবস্থা পরিবর্তনের প্রচলিত ধারণার মূলায়ন করা প্রয়োজন। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, সিঙ্গাপুরের ডিবিএস ব্যাংক একটি সনাতনী ব্যাংক থেকে যেভাবে রূপান্তরের মাধ্যমে এশিয়ার একটি অন্যতম সেরা ব্যাংকে পরিণত হল তার পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যাবে যে এর পেছনে অন্যতম কারণ হচ্ছে মূল স্রোতকে দক্ষ করা, তাদের মানসিকতার পরিবর্তন করা, নতুন কিছু করার স্বাধীনতা দেয়া, তাদের শেখানো, নিজে থেকে শেখার সুযোগ করে দেয়া, তাদের সঙ্গে প্রতিনিয়িত সংযোগ রাখা এবং এমন একটা পরিবেশ সৃষ্টি করা যেখানে ব্যাংকারদের কম ঝুঁকিমুক্ত রাখা যায়। ব্যাংকটির শীর্ষ নির্বাহী পিযুষগুপ্ত ব্যাংকটিকে যখন গ্রাহক অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে এবং চীনা ফিনটেক প্রতিষ্ঠানগুলোর সাফল্যের কথা ভেবে এবং তাদের দিকে নজর রেখে, ব্যাংকটিকে ফিনটেকে রূপান্তরের দিকে নিয়ে গেলেন তখন তিনি কিন্তু মূল স্রোতকেই সামনে রাখলেন, তাদের দক্ষ করলেন, মানসিকতার পরিবর্তন করলেন, তাদের নিজে থেকে শেখার সুযোগ করে দিলেন এবং কম ঝুঁকিমুক্ত রাখার ব্যবস্থা করলেন। কেবল তিনি কয়েকজন ডাটা অ্যানালিস্ট নিয়োগ দিলেন। তিনি সিটি ব্যাংক এনএ থেকে এসে এ ব্যাংকের দায়িত্ব নিয়ে নিজ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ডিবিএস ব্যাংকের ২৬০০০ কর্মীর মাইন্ডসেট পরিবর্তন ও দক্ষ করে রূপান্তরের উপযুক্ত করে নেয়ার প্রচেষ্টায় নামলেন এবং সফল হলেন।

করোনা বিশ্বব্যাপী ব্যবসা-বাণিজ্য, অর্থনীতি, রাজনীতি, আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্ক, সমাজনীতি কিংবা জীবনাচার সবকিছু পাল্টে দিচ্ছে। অর্থনীতিতে নানা রকম শঙ্কার সৃষ্টি হচ্ছে। ব্যবসা-বাণিজ্য প্রায় বন্ধ হওয়াতে আর্থিক গতিশীলতা নেই বললেই চলে। আমদানি-রফতানি গত তিন মাসে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ কমে গেছে। ব্যাংকগুলোয় এসবের বড় ধরনের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। নতুন ঋণ প্রদানে ব্যাংকগুলো ঝুঁকি নিতে চাচ্ছে না। বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণ শ্রেণিকরণের বিদ্যমান নীতিমালা প্রয়োগ স্থগিত করল; কিন্তু শ্রেণিকরণের নীতিমালা যদি হুট করে আবারও বলবৎ করা হয় তাহলে ব্যাংকিং খাতে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটার শঙ্কাই বেশি।

বাংলাদেশে ব্যাংক কর্তৃক ঘোষিত প্রায় লক্ষ কোটি টাকার প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বৃহৎ শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্য এবং কৃষি খাতে স্বল্পসুদে এবং সহজ শর্তে ঋণ প্রদানের দায়িত্ব ব্যাংকগুলোর ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। এ ঋণের প্রায় অর্ধেকই ব্যাংকগুলো তাদের নিজস্ব তহবিল থেকে সংস্থান করবে। বাকি অংশ বাংলাদেশ ব্যাংক পুনঃঅর্থায়ন করবে যা বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দিষ্ট মেয়াদান্তে পরিশোধ করার শর্ত রয়েছে। পরিশোধে ব্যর্থ হলে বাংলাদেশ ব্যাংকে রক্ষিত সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের হিসাব বিকলন করে আদায়ের শর্তটি ব্যাংকগুলোর জন্য শঙ্কার বিষয়। ব্যাংকারদের কাছে এমন অভিজ্ঞতা কম, সব ঋণগ্রহীতা সময়মতো অর্থ পরিশোধ করে থাকে।

করোনাকালীন ব্যবসা-বাণিজ্যের অবস্থা মূল্যায়ন করা ব্যাংকারদের জন্য একটা নতুন অভিজ্ঞতা। করোনাকালীন সংকট থেকে উদ্ধারের জন্য সরকার ঘোষিত প্রণোদনা ঋণ প্রস্তাবগুলো যাচাই-বাছাই করার কাজটি বেশ দুরূহ। কেননা ব্যবসার প্রকৃত অবস্থা মূলায়নের জন্য যথেষ্ট তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা বা সংগৃহীত তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করা কিংবা এসব তথ্যের ওপর নির্ভর করার মতো স্বচ্ছ পরিবেশ এখনও সৃষ্টি হয়নি। ঋণগ্রহীতারা সরকারি প্রণোদনার অর্থ বিবেচনায় ফেরত দেয়ায় অনীহা দেখাতে পারে। প্রণোদনা ঋণ দেয়ার বিষয়ে ব্যাংকারদের ঝুঁকি বিবেচনায় অনীহার প্রশ্ন থেকেই যায়। এসবের মূল কারণ হিসেবে বলা যায়, সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় ব্যাংকের যে বিশাল ডাটাভাণ্ডার রয়েছে তার খুব কমই কাজে লাগাতে পারছি। তার জন্য ব্যাংকগুলোর কাছে কি যথোপযুক্ত ডাটা বিশ্লেষণের ক্ষমতা রয়েছে? আর তাই দিনশেষে ব্যাংকারদের অভিজ্ঞতা, রেগুলেটরি কিছু দালিলিক প্রক্রিয়া, বিশ্লেষণ এবং কিছুটা অনুমাননির্ভর সিদ্ধান্তের ওপর ভরসা করতে হয়। দক্ষতা বৃদ্ধির প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ তেমন ফলপ্রসূ নয়।

ব্যাংকের বিদ্যমান ঋণগুলো ব্যবস্থাপনায় নতুন নতুন ঝুঁকির উদ্ভব ঘটবে। যেসব গ্রাহকের ঋণ ফেরত দেয়ার সংস্কৃতি চমৎকার ছিল তাদের কাছ থেকেও খারাপ খবর আসতে পারে। আর যাদের ঋণ ফেরত দেয়ার সংস্কৃতি খুব একটা ভালো ছিল না তারা এ করোনার সুযোগ নিয়ে নানারকম টালবাহানা করবে। নতুন ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রেও ব্যাংকারদের মাঝে অনেক দ্বিধা-দ্বন্দ্ব থাকবে। কেননা করোনা পূর্বের ব্যবসায়িক এবং আর্থিক ইতিহাস বা রেকর্ড দেখে কোনো প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দেয়া ঝুঁকির বিষয়। করোনাতে প্রতিষ্ঠানটির কেমন ক্ষতি হয়েছে তার মূল্যায়ন করা করোনা-পরবর্তী সময়ে সহজ কাজ হবে না। আর তাই করোনা-পূর্ববর্তী সময়ের ব্যাংকিং সংস্কৃতি একইভাবে করোনা-পরবর্তী অবস্থায় প্রয়োগ করা যুক্তিযুক্ত নাও হতে পারে। আর তাই নতুন একটা পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে।

করোনা ব্যাংকিংকে নতুনভাবে বোঝার সুযোগ করে দিয়েছে বা বলা যায় নতুন করে ভাবা ছাড়া বিকল্প থাকছে না। সনাতনী ব্যাংকিংকে গতকালের গল্প ভেবে প্রযুক্তিকে মূল স্রোতে নিয়ে আসতে হবে। আর প্রযুক্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে ব্যাংকারদেরই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। গ্রাহক অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে প্রযুক্তির সুবিধাগুলো নির্ধারণ করতে হবে। একটা ধারণা থেকে জানা যায়, যখন ব্যাংকিং প্রযুক্তির পরিকল্পনা করা হয় তখন প্রায় ৩০ শতাংশ আসল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়, আবার ডিজাইন এবং বাস্তবায়ন পর্যায়ে আরও ৩০ শতাংশ ছিটকে পড়তে পারে। মূল লক্ষ্যের ৪০ শতাংশ মাত্র বাস্তবায়িত হয়।

ফিনটেক প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে গ্রাহকের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে, তাদের তো শাখা নেই বা রাস্তার পাশে দোকান নেই। তারা কীভাবে ব্যাংকিংয়ের কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছে তা ব্যাংকারদের অনুধাবন করা প্রয়োজন; কিন্তু ব্যাংকগুলো এখনও সনাতনী পদ্ধতি আঁকড়ে রাখার চেষ্টা করছে। গ্রাহকের মনোভাবকে প্রযুক্তি দিয়ে অনুধাবন করতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়িয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ পর্যায়ে রূপান্তর ঘটাতে হবে। গ্রাহক সেবা, ঋণ প্রস্তাব প্রক্রিয়াকরণ, মূলায়ন ও ঋণ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, প্রতারণা চিহ্নিতকরণ, মানিলন্ডারিং, এসেট ম্যানেজমেন্ট, অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, কেওয়াইসি, রেগুলেটরি বাধ্যবাধকতা পরিপালনের মতো কাজগুলো এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার হাতে ছেড়ে দিতে হবে। গ্রাহকের মনোভাবকে উপলব্ধি করে ব্যাংকিং পণ্য তৈরিতেও প্রযুক্তির সহায়তা নিতে হবে। অনেক বিশেষজ্ঞ ধারণা করেন, প্রযুক্তির উপযুক্ত ব্যবহার ২০ শতাংশ খরচ কমাতে এবং ৩০ শতাংশ মুনাফা বাড়াতে সহায়তা করতে পারে। এটাও ধারণা করা হয়, উপযুক্ত প্রযুক্তিতে রূপান্তর ঘটাতে সম্ভব হলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ২০ শতাংশ জনবল এমনিতেই উদ্বৃত্ত হয়ে যাবে।

গ্রাহককে তার নিজের অবস্থানে বসেই ব্যাংকিংয়ের বেশিরভাগ কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। সিঙ্গাপুরের ডিবিএস ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী ভারতীয় বংশোদ্ভূত পিযুষগুপ্ত তার ব্যাংককে রূপান্তরের প্রক্রিয়ায় যে স্লোগানটি নির্বাচন করেছিলেন সেটা হল ‘ব্যাংকিং কম কর, বেশি দিন বাঁচো’। পিযুষগুপ্ত ডিবিএস ব্যাংককে ডিজিটালে রূপান্তরের বদলে ফিনটেকে রূপান্তরের পরিকল্পনা করলেন। কয়েক বছরের মধ্যেই তাদের প্রবৃদ্ধি হল প্রায় ৩৭ শতাংশ। ব্যাংকটি এখন এশিয়ার অন্যতম সেরা ব্যাংক। তিনি বলেছিলেন ব্যাংক সকালে কাজ শুরু করবে আর বিকাল বেলায় তার হিসাব করা হবে এমনটি পাল্টে যাওয়া উচিত। ব্যাংকিং কার্যক্রম চলবে ২৪ ঘণ্টা, যেমনটি একটি ফিনটেক প্রতিষ্ঠান করে থাকে। আলী বাবা, টেনসেন্টের মতো চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যাংকিংয়ের অর্ধেক কার্যক্রমের অংশীদার হয়ে উঠল তা তিনি পর্যবেক্ষণ করলেন এবং অনুসরণ করলেন।

বাংলাদেশের প্রায় ৯ কোটি লোক ইন্টারনেট ব্যবহার করে থাকে। তারা স্মার্টফোনে উবার, বিকাশ, নগদ, পাঠাও, স্কাইপে, জুম ব্যবহার করছে; কিন্তু প্রকৃত ব্যাংকিং লেনদেনের সুবিধা ভোগ করতে পারছে না। অনলাইনে আঙুলের ছাপ দিয়ে মোবাইল সিম কিনছে; কিন্তু ব্যাংকের নতুন হিসাব খোলায় এ স্মার্টফোন ব্যবহার করতে পারছে না। কিছু ব্যাংক ইন্টারনেট ব্যাংকিং চালু করলেও বেশিরভাগ গ্রাহকই এর সঙ্গে সংযুক্ত নয়। এ স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের একটা বড় অংশ মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সেবা ব্যবহার করছে। ব্যাংকিং লেনদেনকে কীভাবে স্মার্টফোনের সঙ্গে সংযুক্ত করা যায় সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। নগদবিহীন লেনদেনে এটি হতে পারে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। ইলেকট্রনিক্স ফান্ড ট্রান্সফার বা ইএফটিএনকে আরও স্মার্ট করার মাধ্যমে এবং উপযুক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থায় স্মার্টফোনের মাধ্যমে যদি এক ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকের হিসাবে অর্থ স্থানান্তর ও লেনদেনের ব্যবস্থা করা হয়, তাহলে নগদবিহীন লেনদেন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে এবং যেমন ব্যাংকের খরচ কমানোর বিষয়ে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে তেমনিভাবে যত্রতত্র ব্যাংকের শাখা খোলার প্রয়োজন কমে যাবে। বেশিরভাগ লেনদেন যদি নগদবিহীন করা যায় তাহলে গ্রাহকের অনেক তথ্যই ব্যাংকের নজরে চলে আসবে, যা গ্রাহক বিষয়ে যে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এ কাজটিই কিন্তু ফিনটেক কোম্পানিগুলো করে থাকে। ডিজিটাল ব্যাংকিংকে কেবল ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ হিসাব-নিকাশে সীমাবদ্ধ রাখা, গ্রাহক সেবায় নিরাপত্তা এবং অজানা ঝুঁকির আশঙ্কায় ব্যাংকিংকে সনাতনী পদ্ধতির মাঝে আটকে রাখার মানসিকতাই ব্যাংকিংয়ে রূপান্তরের একটি বড় বাধা। এ মানসিকতা বেশির ব্যাংক ব্যবস্থাপনাসহ সব স্তরের ব্যাংকারদের মাঝে বিদ্যমান।

তাই আজ সময় এসেছে ব্যাংকিংকে নতুনভাবে চিন্তা করার।

মকসুদুজ্জমান লস্কর : ব্যাংকিং, অর্থনীতি, বাণিজ্য ও উন্নয়নবিষয়ক লেখক

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2017-2024 Dokhinerkhobor.Com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com