শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১, ০২:২৫ পূর্বাহ্ন

উপ-সম্পাদক :: দিদার সরদার
প্রধান সম্পাদক :: সমীর কুমার চাকলাদার
প্রকাশক ও সম্পাদক :: কাজী মোঃ জাহাঙ্গীর
যুগ্ম সম্পাদক :: মাসুদ রানা
সহ-সম্পাদক :: এস.এম জুলফিকার
প্রধান নির্বাহী সম্পাদক :: মামুন তালুকদার
নির্বাহী সম্পাদক :: সাইফুল ইসলাম
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক :: আবুল কালাম আজাদ
সংবাদ শিরোনাম :
বানারীপাড়ায় প্রধানমন্ত্রীর ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে যুবলীগের বৃক্ষ রোপন বানারীপাড়ায় প্লানবিহীন ভবন অপসারনের দাবীতে ব্যাবসায়ীদের মানববন্ধন বানারীপাড়ার সাংবাদিক এস মিজানুল ইসলাম “কবি কাজী নজরুল ইসলাম স্মৃতি পদক-২০২১” পেয়েছেন মাল্টা চাষে স্বাবলম্বী বানারীপাড়ার প্রবাসী হাবিবুর রহমান চালু হওয়ার অপেক্ষায় পটুয়াখালীর দুই মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র হিজলায় ৬শত ৪৭ শিশু শিক্ষার্থীর ভবিষ্যত অনিশ্চিত ঝালকাঠিতে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের মানববন্ধন ও স্মারকলিপি পেশ বরিশালে জবাইকৃত নিন্মমানের মহিষের মাংসসহ আটক ৩ মহান শিক্ষা দিবস উপলক্ষে বরিশালে ছাত্র সমাবেশ পটুয়াখালীর লাউকাঠী-লোহালিয়া নদীতে মাছের পোনা অবমুক্ত
তাদের অভিনেতা হওয়ার গল্প

তাদের অভিনেতা হওয়ার গল্প

ভিনয় তাদের রক্তে মিশে গেছে। যে কোনো চরিত্রে তারা নিজেদের ফুটিয়ে তুলতে পারেন অনায়াসে। তাই তো জনপ্রিয়তায় তারা অন্যদের থেকে অনেক এগিয়ে। বলছি

দুজন অভিনয়শিল্পীর কথা। একজন ওয়ান অ্যান্ড অনলি মোশাররফ করিম এবং অন্যজন অভিনয়ে অনেকের আইডল ফজলুর রহমান বাবু। আজ এ দুই শিল্পীর জন্মদিন। তাদের নিয়েই লিখেছেন- ফয়সাল আহমেদ

অভিনয়ই বাবুর ধ্যানজ্ঞান

‘১৯৮৪ সালে জার্মান কালচার সেন্টারে অভিনয় করে প্রথম ২০০ টাকা পেয়েছিলাম। সেই টাকা দিয়ে মাকে একটি শাড়ি কিনে দিয়েছি। তখন থেকেই ভাবনায় ছিল অভিনয় করে যদি টাকা আয় করা যায় তা হলে আর অন্য কিছু করব না।’ সেই অভিনয় দিয়ে এখন জনপ্রিয় অভিনেতা ফজলুর রহমান বাবু। নাটক কিংবা চলচ্চিত্র- দুই মাধ্যমেই সরব তিনি। অভিনয়ে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিস্বরূপ দুবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও পেয়েছেন। অভিনয়কে এতটাই ভালোবাসেন, এর জন্য চাকরিও ছেড়েছেন। আশির দশকের শুরুতে অগ্রণী ব্যাংকে ক্যাশ অফিসার হিসেবে চাকরি শুরু করেন বাবু। বহু বছর ব্যাংকে চাকরি করার পর ২০০৬ সালে অভিনয়ের জন্য চাকরি ছেড়ে দেন। এর আগে অবসরে কিংবা ছুটিতে অভিনয় করতেন। বাবু বলেন, ‘অভিনয় জীবন থেকে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি মানুষের ভালোবাসা। মানুষ যখন বলেন, আমি যে চরিত্রে অভিনয় করি সেটি নাকি অনেকটাই বাস্তব- বিষয়টি শুনতে আমার বেশ ভালো লাগে, আরও উৎসাহ পাই। এই যে মানুষের কাছে অভিনয় দিয়ে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলা, এটি অনেক কঠিন কাজ। এই কঠিন কাজটি করার পর যখন দর্শকের ভালোবাসা পাই, সেটিই অনেক বড় পাওয়া। দর্শক আমাকে নিজের মানুষ মনে করেন, এটিও আমার জন্য শান্তির।

ওয়ান অ্যান্ড অনলি মোশাররফ

গলার স্বর নকল করার অভ্যাসটা তার ছিল শুরু থেকেই। বাবার প্রশিক্ষণের কল্যাণে আবৃত্তি করতেন চমৎকার। হাইস্কুলে ওঠার পর এসব গুণই সবার থেকে আলাদা করে তুলতে শুরু করল মোশাররফকে। স্কুলের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান মানেই তিনি। আবৃত্তিতে প্রথম পুরস্কার তো অভিনয়ে জোরদার হাততালি। একই সঙ্গে চলছিল যাত্রাপালায় শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয়। মা আর বড় ভাইয়েরা মোশাররফের অভিনয়প্রতিভা দেখে মুগ্ধ হওয়ার চেয়ে শঙ্কিতই হয়ে উঠছিলেন বেশি। কিন্তু মাথার ওপর বটবৃক্ষ হয়ে ছিলেন বাবা। আবদুল করিম জানতেন, যাত্রার দিকে ঝোঁক মানেই অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ। তাই সামনাসামনি ছেলেকে উৎসাহ দেওয়ার সাহস পেতেন না খুব। কিন্তু মনেপ্রাণে চাইতেন, ছেলে যেন অভিনয়টা চালিয়ে যায়। ছেলেকে উসকে দিতেই তিনি ঢাকায় এনে তাকে রীতিমতো টিকিট কেটে নিয়ে যেতেন মঞ্চ নাটক দেখাতে। আবদুল করিমের এই গোপন বাসনা অপূর্ণ থাকেনি। নিজের অপূর্ণ স্বপ্ন পূরণের সম্ভাবনা তিনি দেখেছিলেন ছেলে মোশাররফের মধ্যে। মোশাররফ বাবাকে বিমুখ করেননি। তিনি এখন দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় অভিনেতা। মোশাররফ বলেন, আমার জীবনে অনেক মিরাকল আছে। মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‘ক্যারাম’ তার একটা। যে সময় ক্যারাম করার প্রস্তাব পেলাম, ঠিক সে সময় আরেক নাটকের কাজে আমার ব্যাংকক যাওয়ার কথা। ‘ক্যারাম’ করার জন্য পীড়াপীড়ি শুরু করলেন রোবেনা রেজা জুঁই। আমার স্ত্রী। স্ত্রীর কথায় রাজি হলাম। আর এই ক্যারামই বদলে দিল আমার জীবন।

এর আগে এসএসসি পাস করে ঢাকায় এসে নাম লিখিয়েছিলাম নাট্যকেন্দ্রে। সেখানেই পেলাম তারিক আনাম খান, ঝুনা চৌধুরী, জাহিদ হাসান, তৌকির আহমেদের মতো মানুষজনের সাহচর্য। সেটা আমাকে গড়ে দিয়েছিল অনেকখানি। সত্যিই। তাই মঞ্চ ছিল মূল ধ্যানজ্ঞান। ক্যারাম করতে গিয়ে বুঝলাম, টিভি নাটকেও মঞ্চের মতো নিবেদিতপ্রাণ মানুষজন আছে। চরিত্রের মধ্যে চোখকান বুজে ডুব দেওয়ার সুযোগ আছে। স্রেফ একটা এক ঘণ্টার নাটক কীভাবে একজন অভিনেতার জীবন পাল্টে দিতে পারে তার ভালো উদাহরণ ক্যারাম। সুযোগটা পুরোপুরি কাজে লাগাতে চেয়েছিলাম আমি। ভেবেছিলাম এটাই শেষ বল। হয় ছক্কা নয় অক্কা। সম্ভবত আমি ছক্কা মারতে পেরেছি।

ক্যারাম নাটকের পর আর পেছনে ফেরার কোনো সুযোগ ছিল না মোশাররফ করিমের। জড়িয়ে গেলেন সালাউদ্দিন লাভলুর ধারাবাহিক ‘ভবের হাট’ নাটকের সঙ্গে। ‘পিক পকেট’, ‘লস প্রজেক্ট’ কিংবা তৌকির আহমেদের ‘দারুচিনি দ্বীপ’ থেকে শুরু করে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ধারাবাহিক নাটক ‘৪২০’, সবখানেই সমান সাবলীল মোশাররফ করিমকে সবিস্ময়ে আবিষ্কার করেছেন এ দেশের ছোট পর্দার দর্শক।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2017 Dokhinerkhobor.Com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com