বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২০, ০৪:৩৫ পূর্বাহ্ন

উপ-সম্পাদক :: দিদার সরদার
প্রধান সম্পাদক :: সমীর কুমার চাকলাদার
প্রকাশক ও সম্পাদক :: কাজী মোঃ জাহাঙ্গীর
যুগ্ম সম্পাদক :: মাসুদ রানা
সহ-সম্পাদক :: এস.এম জুলফিকার
প্রধান নির্বাহী সম্পাদক :: মামুন তালুকদার
নির্বাহী সম্পাদক :: সাইফুল ইসলাম
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক :: আবুল কালাম আজাদ
সংবাদ শিরোনাম :
পটুয়াখালীতে এসডিএফ ও উপজেলা মৎস্য অফিস কতৃক প্রান্তিক জেলেদের জীবনমান উন্নয়ন মূলক সভা অনুষ্ঠিত জননেত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকলে দেশের বহুমাত্রিক উন্নয়ন অব্যাহত থাকবে-এমপি শাওন চরফ্যাসনে তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীর বিরুদ্ধে সাবেক স্বামীকে হয়রানীর অভিযোগ চরফ্যাসনে ভুমিহীন পরিবারকে জমি থেকে উচ্ছেদে চেষ্টার অভিযোগ জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে পিরোজপুরের ভা-ারিয়ায় আলোচনা সভা বিএমপি পুলিশের মোবাইল নম্বর পরিবর্তন আগৈলঝাড়ায় একটি বিদ্যালয়ে তিন ঘন্টার পরীক্ষা হচ্ছে চব্বিশ ঘন্টায় আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ এমপি’র সুস্থ্যতা কামনায় আগৈলঝাড়ায় দোয়া-মোনাজাত অনুষ্ঠিত নাজিরপুরে নিখোঁজ বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ’র সুস্থতা কামনায় সম্পাদক পরিষদ বরিশালের উদ্যোগে দোয়া-মোনাজাত
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন

যেকোনো গণতান্ত্রিক দেশে মানুষের মৌলিক অধিকার, মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা জরুরি। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও চেতনারই অংশ এসব বিষয়। সংগত কারণে বাংলাদেশের সংবিধানও এই তিনটি বিষয়ের নিশ্চয়তা দিয়েছে। তার পরও সময়ে সময়ে এমন কিছু আইন করা হয় এবং এমন কিছু বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়, যা এই সংবিধানের পরিপন্থী। সম্প্রতি জাতীয় সংসদে পাস হওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা বিলকেও তেমনি একটি আইন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিলটির খসড়া প্রকাশের পর থেকেই এর নির্দিষ্ট কিছু ধারা সম্পর্কে গণমাধ্যমসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ফোরাম থেকে ব্যাপক আপত্তি জানানো হয়েছিল। তা সত্ত্বেও বিলটি সংসদে পাস হওয়ায় গণমাধ্যমকর্মীরা প্রতিবাদ জানাতে রাস্তায় নেমে আসে। এ অবস্থায় গত রবিবার তিনজন মন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টা সম্পাদক পরিষদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। দীর্ঘ প্রায় তিন ঘণ্টা আলোচনার পর আইনমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, সম্পাদক পরিষদের আপত্তির কারণগুলো তাঁরা শুনেছেন। এরপর মন্ত্রিসভার বৈঠকে এগুলো নিয়ে কথা হবে। আবারও সম্পাদক পরিষদের সঙ্গে তাঁরা বসবেন। পর্যায়ক্রমে সংবাদপত্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংগঠনের নেতাদের সঙ্গেও আলোচনা করবেন এবং তাঁরা একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছার চেষ্টা করবেন।
ডিজিটাল নিরাপত্তা বিলের মোট ৯টি ধারা (৮, ২১, ২৫, ২৮, ২৯, ৩১, ৩২, ৪৩ ও ৫৩) নিয়ে সংবাদকর্মীদের ব্যাপক আপত্তি রয়েছে। সম্পাদক পরিষদ এই ধারাগুলোকে স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সারা দুনিয়ার মতো বাংলাদেশেও সাংবাদিকতার একটি মান তৈরি হয়েছে। সংবাদ সংগ্রহের কিছু নিয়ম, নীতি, পন্থা ও প্রবণতা স্বীকৃতি পেয়েছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা বিলের কিছু ধারায় প্রচলিত সেসব পন্থাকে অস্বীকার করা হয়েছে। সাংবাদিকদের সবচেয়ে বেশি আপত্তি ছিল ৩২ ধারা নিয়ে। সেই ৩২ ধারা প্রায় অবিকৃত রেখেই আইনটি পাস করা হয়েছে। সঙ্গে যোগ করা হয়েছে ঔপনিবেশিক আমলের অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট। সেই মোতাবেক ৩২(১) ধারায় বলা হয়েছে, ‘যদি কোনো ব্যক্তি অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের আওতাভুক্ত অপরাধ কম্পিউটার, ডিজিটাল ডিভাইস, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক, ডিজিটাল নেটওয়ার্ক বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক মাধ্যমে সংঘটন করেন বা করিতে সহায়তা করেন তাহা হইলে তিনি অনধিক ১৪ বছরের কারাদ- বা অনধিক ২৫ লাখ টাকা অর্থদ- বা উভয় দ-ে দ-িত হইবেন।’ আইনের ৩২(২) ধারা অনুযায়ী দ্বিতীয়বার কেউ একই অপরাধ করলে ‘যাবজ্জীবন কারাদ- বা অনধিক এক কোটি টাকা অর্থদ- বা উভয় দ-ে দ-িত হইবেন।’ সংবাদপত্রসংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এরপর কোনো সাংবাদিকের পক্ষেই সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানের খবর সংগ্রহ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। তাতে কার স্বার্থ উপেক্ষিত হবে এবং কারা লাভবান হবে? বিলটিতে এখনো রাষ্ট্রপতি স্বাক্ষর করেননি বিধায় মন্ত্রিসভার বৈঠকে আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। জাতীয় সংসদও বিলটি পুনর্বিবেচনা করতে পারে। আমরা আশা করি, স্বাধীন সাংবাদিকতার কণ্ঠ রোধ হয় এমন যেকোনো পদক্ষেপ নেওয়া থেকে সরকার বিরত থাকবে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2017 Dokhinerkhobor.Com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com