মঙ্গলবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৩, ০৬:২০ পূর্বাহ্ন

উপ-সম্পাদক :: দিদার সরদার
প্রধান সম্পাদক :: সমীর কুমার চাকলাদার
প্রকাশক ও সম্পাদক :: কাজী মোঃ জাহাঙ্গীর
যুগ্ম সম্পাদক :: মাসুদ রানা
সহ-সম্পাদক :: এস.এম জুলফিকার
প্রধান নির্বাহী সম্পাদক :: মামুন তালুকদার
নির্বাহী সম্পাদক :: সাইফুল ইসলাম
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক :: আবুল কালাম আজাদ
সংবাদ শিরোনাম :
৪ ফেব্রুয়ারী বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে সদর উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে লিফলেট বিতরণ রিক্সা পেয়ে আনন্দে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীকে জড়িয়ে কাঁদলেন অক্ষমবৃদ্ধ ও দুপা-বিহীন প্রতিবন্ধী মুলাদীতে আজাহার উদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবনির্বাচিত কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে নির্বাচিত হওয়ার অভিযোগ ঘুষ বাণিজ্যে কপাল পুড়েছে নান্টু ও মেহবুলের, ভাগ্য খুলেছে আবুল হোসেন ও শাহীনের কিশোর গ্যাং কালচার এ বাংলাদেশ অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিএনপি ২৯০টি আসনে জয় লাভ করবে: বরিশালে রুমিন ফারহানা শেখ হাসিনার অধীনে আর নির্বাচন নয়: মির্জা ফখরুল বরিশাল আসছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অবঃ) জাহিদ ফারুক শামীম এমপি ৫ নভেম্বর বরিশালে বিএনপির গণসমাবেশ সফল করতে কাশিপুর ইউনিয়নে কেন্দ্রীয় নেতাদের লিফলেট বিতরণ জে.সি.আই এর সঙ্গে ৫ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর

নিবন্ধিত মিডিয়া পোর্টালের লাইসেন্স এমন আইন অপ্রয়োজনীয়

নিবন্ধিত মিডিয়া পোর্টালের লাইসেন্স এমন আইন অপ্রয়োজনীয়

দৈনিক পত্রিকা, বেতার ও টেলিভিশন চ্যানেলের অনলাইন পোর্টালের জন্য নতুন করে নিবন্ধন করতে হবে। এমনই নির্দেশনাসহ অনলাইন গণমাধ্যম আইনের খসড়ার অনুমোদন দিয়েছে সরকার। বলা হয়েছে, পত্রিকাগুলো কাগজে (হার্ড কপি) যা ছাপছে, সেটিই যদি হুবহু অনলাইনে প্রকাশ করে তাহলে নতুন করে অনুমতি লাগবে না। কিন্তু যদি ভিন্নতর কিছু করে তখন অনুমতি নিতে হবে। এ ছাড়াও ২০১৭ সালের অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালায় সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা ছিল না এমন কিছু বিষয় যেমনÑ অনলাইন নিউজ পোর্টাল নিবন্ধনের যোগ্যতা-অযোগ্যতা, নিবন্ধন ফি, কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ, লাইসেন্সপ্রাপ্ত টেলিভিশন চ্যানেল এবং বেতারের নিউজ পোর্টাল হিসেবে প্রচারকার্য পরিচালনা, আইপি টিভি ও ইন্টারনেট রেডিও সম্প্রচার ইত্যাদি নতুন খসড়া নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
নতুন এই খসড়া ইতোমধ্যে আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে দৈনিক পত্রিকা এবং বেতার-টেলিভিশনের নিউজ পোর্টালের নতুন করে লাইসেন্স নেয়ার শর্ত আরোপের বিষয়টি। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) বলেছে, এ নির্দেশের কারণে অবাধ তথ্যপ্রবাহ ও স্বাধীন মতপ্রকাশের অধিকার খর্ব হতে পারে। গত মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে টিআইবি আরো বলেছে, দেশের সব অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং জাতীয় পত্রিকা ও বেতার-টেলিভিশনের অনলাইন সংস্করণকে পৃথকভাবে নিবন্ধন করার নির্দেশ সংবাদমাধ্যমের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ ও হস্তক্ষেপ নিশ্চিত করবে।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘এই নির্দেশ নিবন্ধিত সংবাদমাধ্যমগুলোকে সরকারি সুযোগ-সুবিধার আওতায় আনা এবং অপসাংবাদিকতা রোধের কৌশল বলে তথ্য মন্ত্রণালয়ের তরফে বলা হলেও মূলত এটি দেশের গণমাধ্যমের ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ নিশ্চিত করবে।’ রেডিও, টেলিভিশন ও পত্রিকার সম্পাদকরা বলছেন, ‘এটি অদরকারী পদক্ষেপ। কারণ প্রচলিত আইন মেনেই তারা সাংবাদিকতা করছেন।’
বাংলাদেশে এখন গণমাধ্যমের বিষয়ে বিদ্যমান যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বা এর ৫৭ ধারাসহ যেসব নিয়ন্ত্রণমূলক আইন আছে এবং তাতে যেসব কঠোর শাস্তির বিধান করা রয়েছে; সেগুলো মেনেই সাংবাদিকরা তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। মামলা, গ্রেফতার, হয়রানি, জেল-জুলুম ইত্যাদির যেসব নমুনা গত এক দশকের বেশি সময় ধরে চলছে, তাতে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের সুযোগ প্রায় অন্তর্হিত। আন্তর্জাতিক মাধ্যমেও এমন খবর প্রকাশ পেয়েছে যে, বাংলাদেশে সাংবাদিকরা এখন খবর প্রকাশের ক্ষেত্রে সেলফ সেন্সরশিপ প্রথা অনুসরণ করেন। দেশী-বিদেশী সংবাদমাধ্যমে বাংলাদেশে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে অনেক সংবাদকর্মীই মামলা বা হয়রানির ভয়ে সেলফ সেন্সরশিপের কথা বলেছেন।
এ ছাড়াও আমাদের মনে আছে, ২০১৯ সালে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বিষয়ে ‘রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস’ নামে একটি আন্তর্জাতিক সংগঠনের প্রতিবেদনে ১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৫০-এ। আরেকটি বিষয় লক্ষণীয়, সাংবাদিকরা যেকোনো কারণেই হোক, সরকারের সমালোচনা বা বিরুদ্ধাচরণে উৎসাহী নন। বরং কে কত বেশি সরকারের কাছের মানুষ সেই প্রমাণ দিতেই তারা যতœশীল। এই যখন পরিস্থিতি, তখন নিউজ পোর্টালের নতুন করে লাইসেন্স নেয়ার নির্দেশের বিপক্ষে তেমন কোনো উচ্চবাচ্য সাংবাদিক ইউনিয়ন বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে হবে না বলেই ধরে নেয়া যায়।
তা ছাড়া, বর্তমান ক্ষমতাসীন দল কোনো একটি আইন প্রণয়নেও সাংবাদিকদের মতামতের গুরুত্ব দিয়েছে, এমন উদাহরণ কম। একইভাবে এই নতুন আইনও পাস হবে, ধরেই নেয়া যায়। যেখানে সাংবাদিকরা নিজেই নিজের ওপর সেন্সর চালান সেখানে আরেকটি নিবর্তনমূলক আইন হলেই বা কার কী এসে যাবে? তবে সমস্যা একটি আছে, গণমাধ্যম যখন সত্য প্রকাশ করতে পারে না; তখন সরকার নিজের বন্ধুদের কাছে থেকেও যথাযথ পরামর্শ পায় না। এটি ক্ষমতাসীনদের জন্য কখনো শুভ হয় না। কিন্তু বাস্তবতা হলো, ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় কোনো সরকারই তা অনুধাবন করতে চায় না।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2017 Dokhinerkhobor.Com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com